প্রধান সংবাদ

দেশে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ২৯১১, মৃত্যু ৩৭

স্টাফ রিপোর্টার:
বিশ্বে যখন মৃত্যু মিছিল তখন করোনায় বাংলাদেশেও দিনকে দিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ৭০৯ জন মারা গেলেন। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরো ২ হাজার ৯১১ জন। ফলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৪৪৫ জন। ৫২ টি পরীক্ষাগারে এসব পরীক্ষা করা হয়। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২, ৭০৪টি।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ মেনে ঘরে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণেরও পরামর্শ দেন। একই সাথে যারা করোনার এই মহামারিতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের ধন্যবাদ দেন নাসিমা।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৫২৩ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১১ হাজার ১২০ জনে।’

নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের ৩৩ জন পুরুষ এবং চারজন নারী। এদের মধ্যে হাসপাতা‌লে মারা গেছেন ২৮ জন এবং বাসায় মৃত্যু হয়েছে নয় জ‌নের। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভা‌গের ১৫ জ‌ন, সি‌লেট বিভা‌গের চারজন, ব‌রিশা‌ল বিভাগের তিনজন, রাজশাহী বিভাগের দুজন, রংপু‌রের দুজন এবং ময়মন‌সিংহ বিভা‌গের একজন রয়েছেন। বয়সের দিক থেকে ২১ থে‌কে ৩০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব চারজন, চল্লিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১০ জন, ষাটোর্ধ্ব নয়জন, সত্তরোর্ধ্ব ১০ জন এবং ৮১ থে‌কে ৯০ বছ‌রের দুজন মারা গেছেন।

এর আগে সোমবারের (১ জুন) বুলেটিনে জানানো হয়, দেশে চব্বিশ ঘণ্টায় আরো ২৩৮১ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯,৫৩৪। এ সময়ের মধ্যে মারা গেছেন আরো ২২ জন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬৭২।

সোমবারের ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৫২টি পরীক্ষাগারে ১১ হাজার ৪৩৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮১ শতাংশ। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ, মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত চার মাসে বিশ্বের ২১২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনে করোনার প্রভাব কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬৪ লাখ ছুঁই ছুঁই। মারা গেছেন তিন লাখ ৭৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে ২৯ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি রোগী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

চিত্রদেশ//এস//

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
02 June 2020

দেশে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ২৯১১, মৃত্যু ৩৭

chitrodesh.com