প্রধান সংবাদ

প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলে ও বংশের নামে ৩ ইউনিয়ন!

নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন কতগুলো ইউনিয়ন পরিষদের গেজেট প্রকাশ করেছে। আর এই অনুমোদিত গেজেটেই ঘটে গেছে এক নজিরবিহীন ‘তুঘলকি কাণ্ড’। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে দিগন্ত ও সীমান্ত এবং তাঁদের বংশীয় উপাধি ‘মীর’–এর নামানুসারে বগুড়ায় তিনটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

বগুড়ার মোকামতলা ও শিবগঞ্জ এলাকায় নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম ‘দিগন্ত’, ‘সীমান্ত’ ও ‘মীর’ রাখার পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবি, ‘সীমান্ত’ নামটি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্তের নামের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়। একইভাবে ‘দিগন্ত’ নামটি তাঁর আরেক ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ। প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্য জীবনবৃত্তান্তেও তাঁর দুই ছেলের নাম সীমান্ত ও দিগন্ত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রতিমন্ত্রীর বংশীয় পরিচয় ধরে ‘মীর’ নামে ইউনিয়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনিক ইউনিটের নাম নির্ধারণে ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দেওয়ার পরিবর্তে এখানে খাটি পারিবারিক প্রভাব খাটানো হয়েছে।

জানা গেছে, দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে গঠিত ‘দীগন্ত’ ইউনিয়নের মৌজাগুলো হলো-ভরিয়া (ভৈরা), মেঘাখর্দ্দ, আলমপুর, রহবল, সাওয়ালদহ, কৃষ্ণপুর, তালিবপুর ও বোয়ালমারী। মোট ৮টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯ জন। পুনর্গঠিত ইউনিয়নসমূহের মধ্যে নবগঠিত স্বর্ণগ্রাম, সীমান্ত ও দীগন্ত ইউনিয়ন, মোকামতলা পৌরসভা এবং শিবগঞ্জ পৌরসভার বর্ধিত অংশ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট মৌজাগুলো নিয়ে আরও পাঁচটি ইউনিয়ন পুনর্গঠন করা হয়েছে।

নামকরণের পেছনে প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না কিংবা ইউনিয়নগুলোর নাম তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম অনুসারেই রাখা হয়েছে কি না, এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

এই বিতর্কের বিষয়ে জানতে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ব্যক্তিগত মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, বিষয়টি নিয়ে ভেতরে-বাইরে প্রবল সমালোচনা তৈরি হয়েছে এবং অভিযোগের পেছনে সত্যতা রয়েছে।

এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নারী শাখা ‘জাতীয় নারী শক্তি’র প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মনিরা শারমিন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়ার নতুন জমিদার। ইউনিয়ন পরিষদের নাম পরিবর্তন করে বংশীয় ও সন্তানদের নামে নামকরণ করছেন। নতুন ইউনিয়নের নাম মীরবাড়ি, সীমান্ত, দিগন্ত। আহ! ক্ষমতা!’

তাঁর এই পোস্টে শত শত নেতিবাচক মন্তব্যে প্রতিমন্ত্রীর এমন ক্ষমতার অপব্যবহার ও ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। সেই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমের তৈরি ফটোকার্ডও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ায় বিষয়টি এখন দেশজুড়ে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
16 June 2026

প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলে ও বংশের নামে ৩ ইউনিয়ন!

chitrodesh.com