স্বাস্থ্য কথা

অ্যাজমা কমাতে যা খাবেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক:

অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা দমনে ওষুধ প্রয়োজন। কিন্তু আপনি জেনে খুশি হবেন যে, নিয়মিত কিছু খাবার খেয়েও অ্যাজমার উপসর্গকে উপশম করা যেতে পারে। কোন খাবার খেলে অ্যাজমার উপসর্গ দুর্বল হয় তা একজন চিকিৎসকে নাও বলতে পারেন। তাই আপনার অ্যাজমা শনাক্ত হলে এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত খাবারগুলো স্মৃতিস্থ করতে পারেন, কারণ এসব খাবার আপনার শ্বাসতন্ত্রের এই সমস্যায় সহায়ক হতে পারে।

* তৈলাক্ত মাছ: ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড কেবল হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও মস্তিষ্কের জ্ঞানীয় সমস্যা থেকেই সুরক্ষা দেয় না। এই প্রয়োজনীয় চর্বি অ্যাজমা থেকেও রক্ষা করতে পারে। স্যালমন, ম্যাকারেল ও টুনার মতো ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ তৈলাক্ত মাছে প্রদাহনাশক শক্তি রয়েছে। এটা শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে পারে। অ্যাজমা অ্যাটাকের একটি প্রচলিত ঘটনা হলো শ্বাসনালীতে প্রদাহ। জন্মের আগে থেকেই তৈলাক্ত মাছের উপকার পাওয়া সম্ভব হতে পারে: ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব গর্ভবতী নারী সপ্তাহে দুইবার তৈলাক্ত মাছ (স্যালমন) খেয়েছেন তাদের শিশুদের মধ্যে অ্যাজমার হার কম ছিল।

* কমলা ও সবুজ শাকসবজি: কমলার মতো সাইট্রাস ফল ও পালংশাকের মতো সবুজ শাকসবজিতে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। গবেষণা অনুসারে বলা যায় যে, ভিটামিন সি ইমিউন সিস্টেমের শক্তিমত্তা বাড়ায় ও শিশুর হুইজিং (শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় অস্বাভাবিক শব্দ, অ্যাজমার অন্যতম উপসর্গ) কমায়। কেবল সাইট্রাস ফল ও সবুজ শাকসবজি নয়, সর্বোচ্চ সুরক্ষা প্রতিক্রিয়া পেতে বিভিন্ন রঙের ফল ও শাকসবজি খেতে পারেন।

* দুধ: দুধ কেবল ক্যালসিয়ামের সমৃদ্ধ উৎস নয়, এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়ামও থাকে। ডায়েটিশিয়ান কলিন পিয়েরে বলেন, ‘ম্যাগনেসিয়ামকে অ্যাজমা-ফাইটিং মিনারেল বলতে পারেন, কারণ এটি ব্রঙ্কির মাংসপেশিকে শিথিল করে শ্বাসনালীকে খোলা রাখে।’ ম্যাগনেসিয়ামের আরেকটি সমৃদ্ধ উৎস হলো তিসি বীজ।

* গাজর: হেলথ ডটকমে শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গাজর কেবল চোখের স্বাস্থ্যে সহায়ক নয়, এটা অ্যাজমার ঘটনাও কমাতে পারে।’ এর কারণ হলো, গাজরে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে অ্যাজমা অ্যাটাকের বিরুদ্ধে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তোলে। গাজরের রঙ যত প্রগাঢ় হবে, এই গুরুত্বপূর্ণ ক্যারোটিনয়েড তত বেশি পাওয়া যাবে।

* ঢেঁড়স: অ্যাজমা হলে মানব শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আরেকটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো গ্লুটাথিয়োন। এটা আমাদের শরীরে উৎপন্ন হয়। কিন্তু কিছু খাবার খেয়েও গ্লুটাথিয়োনের মাত্রা বাড়ানো যায়, যেমন- ঢেঁড়স, শতমূলী ও পালংশাক। খাবারের গ্লুটাথিয়োন শরীরে কম শোষিত হয় বলে অ্যাজমা থাকলে বেশি করে ঢেঁড়স ও পালংশাক খেতে পারেন। শরীরে গ্লুটাথিয়োন তৈরিতে সালফারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সালফার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার কথাও ভাবুন, যেমন- ফুলকপি, ব্রোকলি ও সরিষা শাক। গ্লুটাথিয়োন ফুসফুসকে অ্যাজমার মতো শ্বাসতন্ত্রীয় রোগের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করে অথবা টিস্যুর ড্যামেজ এড়ায়।

চিত্রদেশ//এল//

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
29 December 2020

অ্যাজমা কমাতে যা খাবেন

chitrodesh.com