সাহিত্য

কানিজ কাদীরের গল্প ‘পরীর গল্প ও ওরা’ ৪র্থ পর্ব

কানিজ কাদীর এর গল্প ‌‌’পরীর গল্প ও ওরা’ পড়তে চোখ রাখুন ‘চিত্রদেশ’ এর সাহিত্য পাতায়।

পাঠকদের জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রতি শুক্রবার ‘পরীর গল্প ও ওরা’ প্রকাশিত হচ্ছে চিত্রদেশে। আজ রইল গল্পটির -৪র্থ পর্ব

জয়নাল শুরু করল, ‘এরপর পরীটা প্রায় পরতেক রাইতেই আমার কাছে আইত। গপ্ করত। এমনে কইরা পেরায় আট বছর পাড়ি অইল। একদিন আমি পরীরে কইলাম ‘দেহ এহন তো আমার বিয়ার বয়স অইছে। আমি তো মানুষ। আমার তো মানুষদের মধ্যে কাউরে বিয়া করতে অইব। তুমি আমারে ছাইড়া দেও।’
সুরভি বলল ‘আচ্ছা আপনি তো পরীকে বিয়ে করেছিলেন। ঐ পরীর কোনো ছেলেমেয়ে হয়নি।’ জয়নাল কথাটা শুনে মুচকি হেসে অন্য কথা বলা শুরু করল-‘তারপর অনেক কষ্টে পরী রাজি হইল আমার বিয়ার ব্যাপারে। তারপর আমি অমলারে বিয়া করলাম। তয় তারপরও সে আমার কাছে মাঝে মাঝে আইত।’
‘এখন তো আপনার ছেলেমেয়ে বড় হয়ে গেছে। এখনো কি সে আসে আপনার কাছে।’ অরিত্র জিজ্ঞেস করল।
‘এখন আর অনেক দিন অয় সে আসে না। সে কইছিল যে দূরে কোনোখানে চইল্যা যাইব।’
অরিত্র বলে,’আচ্ছা জিন পরীরা নাকি আমাদের আশেপাশে থাকে। ওরা নাকি নানানরকম রুপ ধারণ করতে পারে।’
জয়নাল বলল-‘হ’ অরাও আমরার চারপাশে জঙ্গলায়, পাহাড় পর্বতে ঘুইরা বেড়ায়, জীবনযাপন করে।’
জয়নালের গল্পে সবাই খাওয়ার কথা ভুলেই গিয়েছিল। ডা.শামীমা অমলাকে টেবিলে খাবার দিতে বলল। সবাই যেয়ে টেবিলে বসল।কারেন্ট চলে এসেছে বেশ আগেই। জয়নালের নেশাধরা গল্পে কারো সেদিকে খেয়ালই ছিল না। ভাত খেতে খেতে ওরা নানা আলাপে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। অরিত্র একটু চুপচাপ। কি যেন ভাবছে আর খাচ্ছে। মা বলল,’ অরিত্র, কি হয়েছে? এত চুপচাপ কেন? তরকারিটা খুব ভালো হয়েছে না? একদম ফ্রেস। তরকারীর স্বাদই আলাদা। বাবা বলে উঠল ‘দেখ ‘দেখ, আমরা শহরে তাজা মাছ পাই না।সব ভেজাল। ফরমালিন দেয়া মাছ,কার্বাইড দিয়ে পাকানো ফল, সার দেয়া শাকসবজি তরকারি। কোনটা খাবো বলো’ সুরভিও আপন মনে খেয়ে যাচ্ছে। একবার শুধু বলল,’আম্মু, খাবার বেশ ভালো লাগছে।’
খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই ঘুমানোর আয়োজনে ব‌্যস্ত হয়ে পড়ল। জয়নাল অমলা মিলে মেঝেতেও তোষক বিছিয়ে দিল। অরিত্র ও ওর বাবা ও অন্যরা মেঝেতে শােবে। মেয়েরা খাটে শোবে। মেঝেতে পাটি, তোষক, ফুল ফুল চাদর দিয়ে সুন্দর একটা বিছানা হলো।মশারি টানানো হলো। অরিত্র বিছানায় শুয়ে বেশ উপভোগ করছিল মেঝেতে শােবার আলাদা অনুভূতি আর মনে মনে ভাবছিল ‘আমার বয়সও তো তের। পরীটা কি আশেপাশে ঘুরছে নাকি! যদি রাতে এসে আমাকে স্পর্শ করে। সামান্য ভয়মিশ্রিত ভাবনা নিয়ে অরিত্র ঘুমিয়ে পড়ল।
সকালের সৌন্দর্য্যটায় সবাই মুগ্ধ হচ্ছিল। উঠানে আলো আর আলো। দূরে সবুজ বিস্তৃত ধানক্ষেত। বারান্দায় বসেই দেখা যাচ্ছে। অনেক দূর চোখ যাচ্ছে। অনেক দূরে এক চিলতে পানির রেখাও চিকচিক করছে। উঠানের একপাশে শেষ কোনায় জয়নালের গোয়ালঘর। গোয়াল ঘরের চালে লাউ গাছের কচি কচি, পাতাগুলো বিছিয়ে আছে। দু-একটা লাউ ঝুলছে। কচি লাউয়ের গায়ে সাদাটে লোমশ ভাবটা কী যে ভালো লাগছে। একপাশে শিম গাছের মাচা। সবুজ সবুজ থোকা থোকা শিম ঝুলে আছে। শিমের বেগুনী ফুলগুলো দেখতে চমৎকার লাগছে। (চলবে)

 

লেখক: কানিজ কাদীর

আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button