প্রধান সংবাদ

আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে ২২ লাখ মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার:
কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসায় উপকূলীয় অঞ্চলের ২২ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হচ্ছে। একইসাথে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া প্রতিহত করতে বরগুনার প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে বিতরণ করা হবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক।

মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে লোকদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলছেন, পরিস্থিতি দেখে বুধবার সকাল ৬টায় মহাবিপদ সংকেত দেয়া হতে পারে। এরপর আর কাউকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া কঠিন হবে।

ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ অবস্থানের বিবরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকারের সর্বশেষে প্রস্তুতি নিয়ে সচিবালয় থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, একদিকে করোনাভাইরাস, আরেক দিকে নতুন বিপদ আমাদের সামনে এসেছে। বাংলাদেশ প্রকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশ্বে রোল মডেল। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের শেল্টার সেন্টারে নিয়ে আসা। ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। আজ রাতের মধ্যেই সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসছেন তাদের সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে এনামুর বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের মিনিমাম এক মিটার দূরত্ব রজায় রেখে থাকতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ এর কারণে দেশে ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৫১ লাখ ৯০ হাজার ১৪৪ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব। তবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হবে। সেজন্য ২০ থেকে ২২ লাখ লোককে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

এর আগে ঘূর্ণিঝড় ফণির সময় ১৮ লাখ এবং বুলবুলের সময় ২২ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল বলে জানান ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মেডিকেল টিম ওষুধপত্র নিয়ে প্রস্তুত আছে। চর থেকে লোকজনদের নিয়ে আসতে নৌবাহিনী কাজ করছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরাও লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে সহযোগিতা করছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোও তৎপর রয়েছে। মাছধরা নৌকাগুলো নিরাপদে অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সুপার সাইক্লোন আম্পান আরও উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে এগিয়ে এসে সামান্য দুর্বল হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আকারে পশ্চিম মধ্যবঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

চিত্রদেশ//এস//

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
19 May 2020

আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে ২২ লাখ মানুষ

chitrodesh.com