প্রধান সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে না হওয়ার ঘোষণা আসার পর চলমান লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।

রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন গণমাধ্যমকে ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বিদেশি কোম্পানির কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে এদিন সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছিল চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরের এনসিটি পরিচালনার ভার আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বেশ কয়েক দফায় কর্মবিরতি পালনের পর রোববার থেকে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করে সংগ্রাম পরিষদ।

এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের আগে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারার চুক্তি না হওয়ার কথা বলেন বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

এরপর রাতে সংগঠনের তরফে ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সংগ্রাম পরিষদের নেতা ইব্রাহীম খোকন বলেন, “নির্বাচনের আগে ডিপি ওর্য়াল্ডের সঙ্গে এনসিটির ইজারার চুক্তি হচ্ছে না বিডা চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যে প্রেক্ষিতে আশ্বস্থ হয়ে আমরা ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত থাকবে।”

বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রোজা মাথায় রেখে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এর আগে বিকালে বিফ্রিংয়ে বিডার চেয়ারম্যান ও পাবলিক প্রাইভেট র্পাটনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে হচ্ছে না। নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে তা হতে পারে।

আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওর্য়াল্ডকে বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে আট ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।

পরে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করে। কর্মবিরতির কারণে বন্দরে সকলপ্রকার অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এসময়ে আন্দোলনকারীদের ১৬ জনকে কয়েকদফায় অন্যত্র বদলি করা হয়।

এর মধ্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন গত বৃহস্পতিবার বন্দরে এসে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

উপদেষ্টার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার পর থেকে দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করে সংগ্রাম পরিষদ।

পরে শনিবার চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে সংগ্রাম পরিষদ এনসিটি ইজারার দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে রোববার থেকে বন্দরে টানা ধর্মঘটের ডাক দেয়।

সকাল থেকে বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কন্টেইনার ওঠানামা বন্ধ ছিল, থেমে ছিল পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও।

সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন প্রবেশ করেনি।

আন্দোলনকারী শ্রমিকনেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায়।

এর মধ্যে দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বন্দর ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, বন্দর সচল রয়েছে।

রোববার সকাল থেকে আন্দোলনকারী পাঁচজনকে আটক করে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

রোববার মধ্যরাতে সংগ্রাম পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক পাঁচ কর্মচারীকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার ও মামলা দেওয়া, ১৫ কর্মচারীকে বিভিন্ন স্থানে হয়রানিমূলক বদলি, আন্দোলনরত কর্মচারীদের শাস্তি প্রদান, তাদের বরাদ্দকৃত বাসা বাতিল এবং ১৬ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তসহ নানা শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকনেতা ইব্রাহীম খোকন বলেন, ‘১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব বিষয়ের সমাধান করা না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
09 February 2026

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট প্রত্যাহার

chitrodesh.com