অর্থ-বাণিজ্যপ্রধান সংবাদ

দাম চড়া সবজি-মুরগির, পেঁয়াজ-ডিমে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
এবার শীত মৌসুমের শুরুর দিকে বাজারে আগাম জাতের সবজির সরবরাহ ছিল ভালো। এতে বাজারদর ছিল ক্রেতার হাতের নাগালেই। কিন্তু গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সবজির দামের সেই চিত্র পাল্টে গেছে। বাজারে এখন প্রায় সব ধরনের সবজির দামই চড়া। সবজির সঙ্গে মুরগিও কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। তবে ডিম ও মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকার কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

মৌসুমের নতুন আলুর দাম খানিকটা বাড়তির দিকে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হওয়া এই আলু এখন বাজার ও মানভেদে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু আলুর দামই নয়, ফুলকপির দামও এখন চড়া। ছোট আকারের একেকটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দামে। কয়েক দিন আগেও প্রতিটি ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া লাউয়ের দাম ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, শীত কমে এলেও সরবরাহ সেভাবে বাড়েনি। যে কারণে সবজির দাম কমছে না।

এদিকে বাজারে নানা জাতের বেগুন বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে মান ও জাতের বিবেচনায় কিছু বেগুন প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালোমানের কিছু বেগুন বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিমের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। সাধারণ মানের সবুজ শিম প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। যা ক’দিন আগেও ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় নেমে এসেছিল। তবে ভালোমানের শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। যা আগে ছিল ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। একইভাবে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া দেশি লাউ এখন প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

তবে খানিকটা সহনীয় দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। বড় আকারের প্রতি পিস বাঁধাকপি বাজারভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভরা মৌসুম হলেও টমেটোর দাম এখনো চড়া। মান ও বাজারভেদে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গাজরের দাম খানিকটা কম। বাজারভেদে প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।

এদিকে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। সেইসঙ্গে দামও বেশ কমেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন ৫০ টাকা কেজি দরেও পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ভ্যানগাড়ির বিক্রেতারা এই দামে বিক্রি করলেও মুদি দোকানগুলোতে মানভেদে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।

এছাড়া ফার্মের ডিমের দাম কমে ১১০ থেকে ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। তবে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বাজারে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে। তবে সোনালি মুরগির দাম বাড়েনি। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ২৪০ টাকা থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা এলাকার মুরগি বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, বছরের শুরুতে নানা অনুষ্ঠানের কারণে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। এতে দামও কিছুটা বেড়েছে।

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
16 January 2026

দাম চড়া সবজি-মুরগির, পেঁয়াজ-ডিমে স্বস্তি

chitrodesh.com