প্রধান সংবাদমুক্তমত

ভালো থাকার চেষ্টা করতে হবে- কানিজ কাদীর

আমরা প্রায়ই বলতে শুনি ইদানীং কিছুই ভাল লাগে না। কিছুই করতে ইচ্ছা করছে না। এই ভালো না লাগা বা কিছুই করতে ইচ্ছা না করা একটি মনের রোগ। একে সারিয়ে তুলতে মনের শক্তি আগে বাড়াতে হবে।

# যারা নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা করে তাদের থেকে দূরে থাকুন। যারা সব সময় অভিযোগ করে আর প্রভাবিত করতে চায় পদের এড়িয়ে চলাই ভালো। যারা সবসময় নেতিবাচক মানসিকতার কারোর সঙ্গে মেলামেশা করেনবা নিজেই নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন তারাই সব সময় হতাশায় ভোগেন। এজন্য চেষ্টা করতে হবে নিজের ভালো দিকগুলো নিয়ে চিন্তা করার । যারা সব কিছুকে ভাল দৃষ্টিতে দেখে, ভাল জিনিস বের করে আনেন তাদের সাথে সময় কাটান। ইতিবাচক চিন্তা চেতনা বা দৃষ্টি ভঙ্গি আমাদের কাজে উৎসাহ যোগায় এবং ভালো থাকতে সাহায্য করে।

#সময়ের কাজ (যে কোন কাজ) সময়ে করে ফেলতে হবে। তাতে অহেতুক মানসিক চাপ নিতে হয় না। অন্যের সাথে সহনশীল আচরণ, ব্যবহার করতে হবে। অন্যের প্রতি সহনশীল ব্যাবহার আমাদের নিজের প্রতি ভালোলাগা অন্যের তৈরি করে।

# আমরা অনেক সময় কিছু নাভেবেই নানা রকম প্রতিজ্ঞা করে বসি। আমরা যখন আনন্দিত থাকি বা খুব রাগান্বিত থাকি তখন প্রতিজ্ঞাগুলো অতটা সাতপাঁচ না ভেবেই করে ফেলি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা যায় সেই প্রতিজ্ঞা আমরা সেভাবে পূরণ করতে পারি না অথবা প্রতিজ্ঞা পুরণ করতে যেয়ে নানা সমস্যায় পড়ি। তবে প্রতিজ্ঞা করে ফেললে তা অবশ্যই পূরণ করা উচিত। নিজের করা প্রতিজ্ঞা নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। প্রতিজ্ঞা পূরণে ব্যর্থ হলে নিজের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়, নিজের আত্মসম্মান ও সম্মান বোধ ও কমিয়ে দেয়।

# ক্ষমা করা একটি মহৎ গুণ। আমরা ক্ষমা করতে দ্বিধা বোধ করি। ক্ষমা করুন যে অনিচ্ছুকৃেত ভুল করেছে বা জেনে বুঝে ভুল করেছে। কিন্তু যে জেনে বুঝে ঠান্ডা মাথায় বেঈমানী করেছে তাকে ক্ষমা করতে গেলে কয়েকবার ভাবতে হবে। নাহলে কখনো কখনো তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ।মনে রাখতে হবে ক্ষমা সবাইকে করা যায় তবে বিশ্বাসঘাতক কে নয়। ক্ষমা করে দ্বিতীয় বার, চলার চেয়ে অন্যায় বা ভুল করেছে যে তাকে এড়িয়ে চলাই ভালো। আমাদের জীবনে অনেক কিছুই ঘটে যা আমরা মেনে নিতে পারি না বা যা উচিত নয়। মনের মধ্যে অনেক সময়ই প্রচন্ড ক্ষোভের জন্ম হয়। কারো খারাপ কথা, খারাপ ভাষা বা ব্যবহার মেনে নিতে পারি না, প্রচন্ড রাগ ক্ষোভ তৈরি হয়। আমরা পরিস্থিতির বিপাকে পড়ে নানারকম উদ্ভুত পরিবেশের জন্ম দিই। তাই এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন থেকে চলতে হবে। কারণ আপনার কাছে যা সঠিক অন্যের কাছে সেটা সঠিক নাও হতে পারে। তাই যদি মনের ক্ষোভ থেকে থাকে তা ঝেড়ে ফেলুন, কিন্তু সতর্ক থাকুন। ক্ষমা করতে শিখুন নিজেকেও কারণ আমরা নিজের সঙ্গেও অনেক অন্যায় করি। নিজেকে ভালোবাসতে শুরু করুন, নিজের প্রতি আস্থা বাড়ান।

#নিজের পছন্দের কাজ ছাড়াও আমাদের অনেক কাজ করতে হয়। অনেক সময় অপছন্দের কাজগুলো আমাদের উপর মানসিক চাপ তৈরি করে। তাই নিজের ভালোলাগার কাজগুলোকে বেছে নিতে হবে, সময় দিতে হবে। যার যার পছন্দ একেক রকমের। আপনার পছন্দকে আপনারই বেছে নিতে হবে। কেউ তা করে দিবে না। কারও কাছে আশা করাও উচিত না। অবশ্যই সব কাজেই একে অপরের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনার ভাললাগা এবং পছন্দের বিষয়গুলো আপনাকেই মনোযোগ দিতে হবে। আপনি যদিও বই পড়তে ভালোবাসেন, ছবি আঁকতে ভালোবাসেন, লিখতে ভালোবাসেন, রান্না করতে, ঘর সাজাতে ভালোবাসেন, বাগান করতে ভালোবাসেন, পশু-পাখী ভালোবাসেন বা গান করতে ভালোবাসেন তাহলে কাজগুলোতে সর্বপ্রথম আপনার ইচ্ছা ও উদ্যোগ প্রয়োজন। ঠিক যখনই আপনি আপনার ভালোলাগা পরিচর্চা করতে শুরু করবেন নিজের ভিতর একটা আলাদা
তৃপ্তি, ভালোলাগা, শক্তি তৈরি হবে। আপনার একাকীত্বের সময়কে কাজে লাগিয়ে সময়টাকে উপভোগ্য করে তুলতে পারবেন।

# নিজের শরীরের যত্ন নেয়া খুব জরুরি। নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে । শারীরিক অসংগতি কাজে অনীহা তৈরি করে। আর অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও যত্ন নেয়া প্রয়োজন। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারা বা সহনশীল হওয়া ভালো থাকার অন্যতম মূল মন্ত্র। জীবনে অনেক রকমের রকমের বাঁধা বিপত্তি, দুর্ঘটনা আসবেই। সেগুলোর সাথে লড়াই করেই আমাদের টিকে থাকতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ় জীবনীশক্তি। তাই নিজেকে ভাল রাখতে চাইলে নিজের উপর চাপ তৈরি না করে নিজেকে শান্ত, ধীর, ধৈর্যশীল ও আত্মবিশ্বাসী থাকাই উত্তম পন্থা।

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
28 July 2026

ভালো থাকার চেষ্টা করতে হবে- কানিজ কাদীর

chitrodesh.com