প্রধান সংবাদমুক্তমত

পরিণত নারীর ‘মন’- কানিজ কাদীর

একজন নারী যখন সংসারে পদার্পন করে তার অসীম দায়িত্ব থাকে।  সব কিছু সামলিয়ে নিজের জন্য তার সময় থাকে না। তখন হয়তো কখনো নিজের পছন্দের অনেক কিছুই সে করতে পারে না। তাছাড়া প্রথম জীবনে আর্থিক সংগতিও অনেক সময় থাকে না। তার মন চাইলেও মনের মত অনেক কিছুই সে করতে পারে না। যখন সে পরিণত বয়ছে অনেক দায়িত্ব শেষে এসে কিছুটা ফ্রী হতে চায়, কিছুটা আর্থিক সংগতি হয় বা ইচ্ছে হয় তখন সে তার মনের মত কিছু করতে চাইলেই পরিবার, সমাজ থেকে সে বাঁধাগ্রস্ত হয়। তাকে সবার প্রয়োজন কিন্তু তার ইচ্ছার গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন কারও নেই। সে নিজে কিছু করতে চাইলে সেখানেও বাঁধা, ব্যাঙোক্তি। একজন পরিণত নারীর মনের খবর কেউ রাখতে চায় না। ভাবে ওর তো বয়স হয়ে গেছে। ওর আবার পছন্দ কি? চাওয়া-পাওয়া কি? কিন্তু আসলে তাই কি? মানুষের মন কিন্তু বুড়ো হয় না। মনের অনেক চাওয়া থাকে যা শেষ হয় না। অনেক কিছু পরিণত বয়সে নতুন করে যা সে তরুণ বয়সে উপভোগ করতে পারে নাই তেমন করে। তাই পরিণত বয়সেও একজন নারীর পছন্দের রং থাকতে পারে, পোশাক থাকতে পারে, গয়না থাকতে পারে, পছন্দের খাবার থাকতে পারে। তবে তা হতে পারে একটু ভিন্ন রকম।

তখন হয়তো সে উচ্চস্বরে গান গাইতে পারে না কিন্তু সে কিন্তু গান পছন্দ করে। তাই সে গান শুনতে পারে। তার মুখে তার সেই হাসি না থাকলে কেউ আর বলবেও না “তোমার কি মন খারাপ? তাই পরিণত বয়সে নারী তার মনস্করপে মন খারাপের গল্প নিজেকেই শোনায়, নিজেই স্মৃতিচারণ করে। তবে সে যত মন খারাপ করেই থাকুক বা মন খারাপ হউক সংসারে কিন্তু তার প্রয়োজন অপরিসীম। সংসারকে গুছিয়ে সুন্দর রাখা যেন তারই শুধু কাজ। সংসারে সর্বক্ষেত্রে তার প্রয়োজন অনেক। সবাই যেন তার উপর নির্ভরশীল হতে চায়। কলিং বেলে শব্দে তাকেই বেশি দৌঁড়ে যেতে হয়, বাজারের লিস্টটাও তারই করতে হয়। সাহয্যেকারীকে পরিচালনা তারই করতে হয়। কি রান্না হবে তরে তদারকী অথবা রান্না তারই করতে হয়। মেহমানদারি তারই করতে হয়। ইত্যাদি অনেক কিছুতে তার হস্তক্ষেপ খুবই প্রয়োজন। পরিবারের সবার কি চাহিদা সব সময় তার মাথায় রাখতে হয়। এর মধ্যে নিজের যতটুকু যত্ন নিজেরই করতে হয়। রাতে নস্টালজিক হতে হতে নিজের জগতে ঘুমিয়ে পড়া অথবা নির্ঘুম রাত জাগা তার খবর কে রাখে? কোন অপেক্ষা, অনুভূতি, আবেগের কোন প্রয়োজন নেই। শুধু প্রতিদিনের একটা সচল রুটিন ঠিক থাকলেই হলো। না একজন পরিণত নারীর আনন্দের দরকার নেই, কোন হাসির দরকার নেই, কোন গল্প থাকতে নেই, কোন ভাগাভাগির দরকার নেই। শুধু তার নিরুত্তাপ উপস্থিতি খুব যেন প্রয়োজন।

হয়তো পরিণত একজন নারীর অনেক আছে। উনি সংসারে কমবেশি খরচও করেন। কিন্তু তাতে নেই কোন উচ্ছ্বাস। নিরুত্তাপ একটা স্বার্থপরতা পরিবারের সংসারে মাঝে দেখতে পাবেন। নেই কোন অন্তরের দৃষ্টি বিনিময়। আপনি হাহুতাশ করবেন, না পাবেন না প্রয়োজনের একটুকুও বেশি। আপনি পরিণত একজন সক্ষম নারী, আপনার কোন আবেগ, আনন্দ প্রকাশ করার অধিকার থাকতে নেই। আপনার কোন শখ থাকতে নেই ।

কিন্তু এই পরিণত একজন নারী কিন্তু তার এই উপেক্ষা থেকে নিজেকে কখনোই মুক্ত করতে পারে না। সংসার, নিয়ম, আবেগ, অনুভূতি তাকে আষ্টে পিষ্টে বেঁধে রাখে। তাই তার আর ভালোবাসার কোন চমক, অন্তরের কোন বিনিময়ের দরকার পড়ে না। তার ভিতরে আস্তে আস্তে তৈরি হয় একটা নিজস্ব জগৎ। সে জগত তাকে ভিন্ন পথ দেখায়। সে নিজে নিজেই হয়ে উঠে এক শক্তি।

(এই লেখাটি সব নারীদের জন্য নয়। কারণ সবার জীবনের ধরণ একরকম নয়। তবে আমাদের সমাজে বেশির ভাগ নারীর মনে একটা হাহাকার, অতৃপ্তির গল্প আছে) ।

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
23 July 2026

পরিণত নারীর 'মন'- কানিজ কাদীর

chitrodesh.com