অপরাধ ও আইনপ্রধান সংবাদ

ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ: মোবাইলের সূত্র ধরেই ধর্ষক মজনুকে গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার:
ধর্ষণের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মোবাইলের সূত্র ধরেই ধর্ষক মজনুকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ওই ছাত্রী ওইদিন কুর্মিটোলা বাসস্টপেজের কাছে ভুল করে নেমে যান। এরপর মজনু তাকে ফলো করে এবং তার ওপর নির্যাতন চালায়। এরপর ওই ছাত্রীর রেখে যাওয়া মোবাইল-ব্যাগ নিয়ে যায় সে। এক পর্যায়ে অরুণা নামে পরিচিত এক নারীর কাছে ছাত্রীর মোবাইল ফোনটি বিক্রি করে দেয়। আমরা প্রথমে ফোনের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করি। পরে তার দেয়া তথ্যমতে অরুণাকে আটক করি। শেষমেষ ধর্ষক মজনুকে শেওড়া রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।’

সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থী বলেছেন, ‘পৃথিবীর সবার চেহারা ভুলে যেতে পারি, কিন্তু ওই ধর্ষকের চেহারা কখনোও ভুলবো না।’

ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার মজনু (৩০) একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ বলে জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‌‘মজনু একজন সিরিয়াল রেপিস্ট। ঢাকায় আসার পর বিভিন্ন রেল স্টেশনে কিংবা এর আশপাশে থাকতো। সে একজন মাদকাসক্ত। তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হযে যায়। ঢাকায় এসে সে প্রতিবন্ধী ও নারী ভিক্ষুকদের ধর্ষণ করতো বলে জিজ্ঞাসাবাদে আমাদের জানিয়েছে। ১২ বছর আগে ট্রেন থেকে পড়ে তার দুটি দাঁত ভেঙে যায়। তার বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়। তার বাবার নাম মৃত মাহফুজুর রহমান। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর দেওয়া বক্তব্য ও আমাদের তদন্তে মজনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তার করা হয় মঙ্গলবার দিনগত রাতে।’

এর আগে ওই ছাত্রীর দেওয়া চেহারার বর্ণনা অনুযায়ী, ধর্ষকের একটি স্কেচ আঁকা হয়। সেই স্কেচ ধরে অনুসন্ধানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুর্মিটোলা বাস স্টপে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নামার পর ওই ছাত্রীকে মুখ চেপে রাস্তার পাশে নিয়ে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তি। সেখানে তাকে অজ্ঞান করে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে ১০টার দিকে তার জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে নির্জন স্থানে অবিষ্কার করেন।

এরপর ওই ছাত্রী ঘটনাস্থল থেকে গন্তব্যে পৌঁছালে রাত ১২টার পর তাকে ঢামেক জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় সহপাঠীরা। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

চিত্রদেশ//এস//

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
08 January 2020

ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ: মোবাইলের সূত্র ধরেই ধর্ষক মজনুকে গ্রেপ্তার

chitrodesh.com