গল্প-কবিতা

কানিজ কাদীরের ভ্রমণ কাহিনি-‘মাদুরাই'(পর্ব-২১)

বিকাল ৫টার দিকে রুমে আসলাম। সব কাপড়চোপড় ও জিনিসপত্র গুছিয়ে লাগেজে ভরা শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর রকিবুল ও রাফিজা এসে আমাকে হেল্প করলো গোছানাের কাজে। মাগরিবের নামায পড়ে আমরা আবার নীচে রিসিপশনের সোফায় কিছুক্ষণ বসলাম। ঢাকা থেকে আমার হাসব্যান্ড ফোন দিল। ‘তিজী’ ও ‘নাসিফে’র সাথেও কথা বললাম। রাতের খাবার শেষে রুমে চলে আসলাম ৯টার দিকে। ঢাকা থেকে ডাঃ আশিক ও অফিসের (এন.আই.ও) আর একটা ছেলে আসার কথা। রকিবুলের ডাকে দরজা খুললাম। ডাঃ আশিক এসেছে। ওর রুম নম্বার ২০৭।একেবারে আমার রুমের পাশেই । ওদেরকে রুমের অনেক কিছু বুঝিয়ে ঘরে ঢুকলাম।

টেলিভিশনে পুরনাে ছবির গানের দৃশ্যগুলো আমি খুব এনজয় করতাম।১৯৫৯ সনের কিছু ছবির গান দেখে আমি অবাক হলাম । নায়িকার সাইকেল চালানো, নাচ দেখে তামিল চলচ্চিত্রের শুরুটা কতটা সমৃদ্ধ ছিল তাই ভাবলাম। এ রুমটাতে ২৫দিন ধরে আছি। একাকি রুমটাতে মনে হতো আমি একলা একটা দ্বীপের বাসিন্দা। তবু্ও এ রুমের নানা স্মৃতি মনে থাকবে। ১ লা ডিসেম্বর, এই রুমে শেষ রাত কাটাবো। ২ ডিসেম্বর সকালে নাস্তা করেই আমরা রওনা দেব চেন্নাই এর উদ্দেশ্যে। আমাদের ডমিস্টিক ফ্ল্যাইটের সময় দুপুর সাড়ে ১২টায়। চেন্নাই এয়ারপোর্ট থেকে আমরা সরাসরি ‘মেরিনা সী বিচ এ যাওয়ার প্ল্যান করেছি। রকিবুল ওখানের হোটেল রুমের বুকিং দিয়ে রেখেছে। চেন্নাই ২ তারিখ রাতে থেকে পরদিন সকাল ১১.১০ এর ফ্লাইটে (মালডিভিনি) আমরা ইনশাআল্লাহ ঢাকা এর উদ্দেশ্যে রওনা দিব।

২রা ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফেরার সব প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি। সব গোছগাছ শেষ।রুমটার জন্য একটু মায়া লাগছিল।প্রিয়জন হারনোর শূণ্যতা নিয়ে আবার আমার ঘরের আপনজনের কাছে ফিরবো এ অনুভূতির আনন্দটাও অনুভব করছিলাম। ১লা ডিসেম্বর বেশির ভাগ ইন্সপিরেশন হোস্টেলেই সময় কাটিয়েছি। ২রা ডিসেম্বর সকালে পনে ৯টায় সবাই লাগেজ নিয়ে নিচে নামলাম। চেক আউট খাতায় সই করে দরজা ও লকারের চাবি বুঝিয়ে দিলাম। হোস্টেল ম্যানেজারের কাছ থেকে বিদায় জানিয়ে আমরা গাড়িতে উঠলাম। ড্রা্ইভারকে আগে থেকেই বলা ছিল সকাল ৯টার মধ্যে চলে আসার জন্য। আমরা মাদুরাই এয়ারপোর্টে এসে পৌছালাম। ১০টার দিকে। একঘন্টা বসে অপেক্ষা করলাম। ১১টায় চেকইন। ইমিগ্রেশনে আমাদের লাগেজ এর ওজন কিছু বেশি হওয়াতে এক্সট্রা চার্জ দিতে হলো। আমরা জেট এয়ারলাইন্সের প্লেইন এ উঠলাম। প্রায় দেড় ঘন্টার পর আমরা চেন্নাই পৌছেঁ গেলাম। ওখান থেকে লাগেজ নিয়ে বের হতে হলো বেশ দূরে। আমরা প্রিপ্রেইড ট্যাক্সিতে উঠলাম। আমাদের হোটেল ‘স্যাভেরায়’ উঠার কথা ছিল।ট্যাক্সি ড্রাইভার আমাদেরকে হোটেল ‘হিলটন’ এর কথা বললো যে এটা স্যাভেরার চেয়ে ভালো আর বীচ এর একদম কাছে। আর হিলটনে ভাড়াও অনেক কম। আমরা হিলটনেই একরাত কাটিয়ে দেবার চিন্তা করলাম। আমাদের যে এক্সট্রা চার্জ দিতে হয়েছে সেটা কিছুটা মেকআপ হবেও ভাবলাম।(চলবে)

 

লেখক: কানিজ কাদীর

Related Articles

Back to top button