
বুঝে শুনে পথ চলা: কানিজ কাদীর
জীবনটা একা কাটানো যায় না। এটা সম্ভব নয়। ”যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে। “রবীন্দ্রনাথের এই কথা দিয়ে কিন্তু একেবারে একাকী চলার কথা বলা হয় নাই। বলা হয়েছে একজন মানুষের মনোবল, দৃঢ়তা ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টার কথা। সেখানে প্রত্যেকটা ব্যক্তি যদি নিজের ভিতরের আমিত্বকে শক্তি হিসাবে কাজে লাগায় তার পথ চলা কেউ ঠেকাতে পারবে না। তাই বলছিলাম, আমাদেরকে সমাজ নিয়ে চলতে হয়, নানারকম মানুষের সাথেই মিশতে হয় ।ভাল মানুষ, মন্দ মানুষ, ভালমন্দ মিশেল মানুষ, নানা পদের মানুষ, নানা বয়সের মানুষ। । কারো মধ্যে ভাল ভাল অনেক গুণ, মন্দ গুণ দু’একটা। এসব লোকদের কাছ থেকে কিন্তু অনেক ভাল জিনিস শেখা যায়। আবার কেউ এত খারাপ যে তার কাছ থেকে ভাল জিনিস আশাই করা যায় না। আমাদেরকে সুন্দর সঙ্গই বেছে নেয়া উচিত। সুন্দর কথা ও সুন্দর গুণের মানুষের সাথে মিশলে নিজের গুণগুলোকে যেমন ধারালাে করা যায় তেমনি নিজের মধ্যে তৈরি হয় এক উন্নত মানবিক গুণাবলী। কথায় বলে “সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস। অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।”’ তাই বাজে সঙ্গ অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। আমাদের বুঝে শুনে পা ফেলতে হবে। যেসব লোকের সাথে মিশতে যেয়ে নিজের অমর্যাদা হয় তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকাই ভাল। ভাল মানুষের সংস্পর্শে মানুষের যেমন সুন্দর চরিত্র গঠন হয় তেমনি তার ব্যবহার, চলন বলন, আচার আচরণ হয় চমৎকার।
তাইতো কবি বলেছেন-
“একদা স্নানের আগারে পসিয়া
হেরিনু মাটির ঢেলা।
হাতে নিয়ে তারে শুকিয়া দেখিনু
রয়েছে সুবাস মেলা-
কহিলাম তারে তুমি কি কস্তুরী?
তুমি কি আতর দান?
তোমার গায়েতে এত যে সুবাস
তুমি কি গুলিস্তান?
মাটির ঢেলা হাসিয়া কহে
ওসব আমি কিছু নহি
আমি অতি নগণ্য মাটির ঢেলা
ফুলের সনে থাকিয়া মোর হয়েছে সুবাস মেলা।”
তাই বলবো আমাদের সবারই প্রত্যেকটি সঙ্গ থেকে তার ভাল জিনিস গ্রহন করা উচিৎ। তার খারাপ দিকগুলো পরিত্যাগ করা উচিত। মানুষের চরিত্রে ভালমন্দ দিক থাকবেই। কারও মন্দ দিক দূরে রেখে ভাল দিক গ্রহণ করেই সবার সাথে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা যায়। আর এভাবেই সমাজে ব্যালেন্স তেরি হয়। পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। মানুষকে একা চলতে হয় না, প্রয়োজন মানুষকে বাধ্য করে অনেকের সাথে একসাথে চলতে। এইজন্যই আমাদের চোখ কান খোলা রেখে সুন্দরকে গ্রহণ করার মানসিকতা নিয়েই পথ চলতে হবে।





