প্রধান সংবাদ

ভালো নেই বেসরকারি চাকরিজীবীরা

স্টাফ রিপোর্টার:
দেশে করোনা পরিস্থিতিতে বেসরকারি চাকরিজীবীরা ভালো না থাকলেও সরকারি চাকরিজীবীরা ভালো আছেন। করোনার মহামারি সংক্রমণ এমন অবস্থায় ফেলেছে দেশের বিপুল সংখ্যক বেসরকারি চাকরিজীবী ও শ্রমজীবী মানুষদেরকে। তাই কেউ কেউ টিকতে না পেরে ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামের পথ ধরেছে।

রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন সুলতান আহমেদ। করোনা পরিস্থিতিতে কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেতন পাই ৩০ হাজার টাকা। এরমধ্যে প্রতিমাসে ১২ হাজার টাকা বাড়িভাড়া দিতে হয়। আর বাকি টাকা দিয়ে সংসার চলে যায়। কিন্তু এখন বেতন পাচ্ছি ১৫ হাজার টাকা। তাহলে সংসার কিভাবে চলবে? তাই আগামী মাস থেকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়ে দিয়েছি।

যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি স্কুলের শিক্ষকতা করেন শারমীন ইসলাম। তিনি বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি চারটি টিউশনি পড়াই। আর এই উপার্জন দিয়ে মা, বোন ও ভাইসহ চার সদস্যের সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু করোনার কারণে গত মার্চ মাস থেকে স্কুল বন্ধ। আর টিউশনিগুলোও বন্ধ রয়েছে। তাই চোখে শুধু অন্ধকার দেখছি।

রাজধানীতে একটি ভবন ভাড়া নিয়ে কোচিং করে আসছিল এক শিক্ষক। নাম প্রকাশ না করে ওই কোচিংয়ের কর্ণধার বলেন, গত ২৬ মার্চ থেকে আমার কোচিং বন্ধ রয়েছে। তাই ভবনটি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাড়িওয়ালা কোনোভাবেই আমাকে ছাড়বেন না। বাড়িওয়ালা বলেছেন, কয়েক মাস ভাড়া না দিলেও তার সমস্যা হবে না। তাই মে মাস থেকে আমি একটি ভবনের ভাড়া দিচ্ছি না। কর্মীদেরও বেতন কমাতে বাধ্য হয়েছি।

করোনার প্রভাবে ধস নেমেছে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তৈরি পোশাক খাতে। বিশ্ববাজারে ৩১৮ কোটি ডলারের বেশি ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা এবং ৩৫ বিলিয়নের মতো রপ্তানি আয় নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ খাত তৈরি পোশাক শিল্পে আয় কমেছে ১৯ শতাংশ।

এদিকে করোনায় দেশে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না বেসরকারি চাকরিজীবীরা, হচ্ছেন চাকরিচ্যুতও। পোশাক কারখানার পরিস্থিতিও আরো ভয়াবহ। এদের অনেকেই ঢাকা ছাড়ছেন। অন্যদিকে কষ্টে আছেন বেসরকারি শিক্ষকরা।

ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের হিসাবে এ পর্যন্ত পাঁচ-সাত হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, মামলা প্রত্যাহার, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল, বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকরা এরই মধ্যে কয়েক দফায় সাভার ও আশুলিয়ায় মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের ৪৬১ কারখানায় এখনো শ্রমিকদের মে মাসের বেতন দেওয়া হয়নি। শুধু পোশাক খাত নয়, বেসরকারি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই চলছে। প্রবাসী আয়ও কমতে শুরু করেছে, যার উপর নির্ভরশীল নিম্নমধ্যবিত্তদের একটি বড় অংশ। করোনা সংকটের কারণে চাকরি হারিয়ে প্রবাস থেকে লাখ লাখ কর্মীর ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে করোনার কারণে ১ম-৯ম গ্রেডের কোনো কর্মকর্তা মারা গেলে পেনশন সুবিধার বাইরেই তাঁর পরিবার অন্তত ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পাবে। এর মধ্যে করোনার কারণে বিশেষ প্রণোদনা ৫০ লাখ, চাকরিকালীন অবস্থায় মৃত্যুর জন্য আট লাখ, ১৮ মাস পর্যন্ত ল্যাম্প গ্রান্ট, কল্যাণ তহবিল থেকে গ্রুপ ইনস্যুরেন্সের টাকা, লাশ দাফনের জন্য পৃথক অনুদান, কল্যাণ তহবিল থেকে পরিবারের জন্য মাসিক ভাতা ইত্যাদি নানা সুবিধা রয়েছে।

প্রণোদনার বাইরে বেশির ভাগ সরকারি চাকুরেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে কাজ করতে হচ্ছে না। গত ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে অফিস খুললেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অফিসগুলোতে অত্যন্ত কমসংখ্যক চাকুরেকে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে। এমনকি গাড়ি ব্যবহার না করেও উপসচিব ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা মাসে মাসে এ বাবদ ৫০ হাজার টাকা করে খরচ পাচ্ছেন।

তবে দেশে সরকারি চিকিৎসকরা নানা ধরনের সুবিধা পেলেও সম্মুখভাগে কাজ করেও বঞ্চিত হচ্ছেন বেসরকারি চিকিৎসকরা। তাদের অনেকেই করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকলেও কোনো প্রণোদনা নেই। এমনকি অনেক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ছাঁটাই, বেতন কমানোসহ নানা ঘটনা ঘটছে।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী ধরা পড়ে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গত ৩০ মে শেষ হয় টানা ৬৬ দিনের

 

চিত্রদেশ//এস//

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
20 June 2020

ভালো নেই বেসরকারি চাকরিজীবীরা

chitrodesh.com