প্রধান সংবাদমুক্তমত

স্মৃতির টানে কিছু কথা (১ম পর্ব)- কানিজ কাদীর

স্মৃতি কথা:

মাসিক বৈশাখী সমাচার, টাঙ্গাইল, ছায়ানীড় প্রকাশিত এই মাসিক পত্রিকাটির কিছু কিছু সংখ্যা আমার শ্রদ্ধেয়া ছোট ফুপু টাঙ্গাইল থেকে মাঝে মাঝে আমাকে পাঠান পড়ার জন্য। আমি বেশ কিছু লেখা খুব মনোযোগ দিয়েই পড়ি। আমার বেশ ভাল লাগে। আমার ছোট ফুপু সুফিয়া আখতার সাবেক শিক্ষিকা, টাঙ্গাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল। জীবন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে উনার দর্শন অতুলনীয়। সৃষ্টিকর্তার এই অসীম সৃষ্টির প্রতি উনার বিশ্বাস, সম্মান, ভালোবাসা অগাধ। উনার স্বামী আমার শ্রদ্ধেয় ছোট ফুপা ছিলেন একজন বিশাল উদার মনের মানুষ। শ্রদ্ধেয় ছোট ফুপা মোঃ ছাদের আলী ছিলেন সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার ও বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক। উনার চমৎকার হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রী ও সুমধুর ব্যবহারে উনি মুগ্ধ করেছিলেন অগণিত মানুষকে। আমার ফুপুর বিশেষ অনুরোধেই আমি এই লেখাটি লিখলাম।

আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। আমার লেখাপড়া সবই প্রায় ময়মনসিংহ থেকে। পরে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করেছি ঢাকায়। আমার জন্মস্থান টাঙ্গাইল জেলায়। তাই প্রতিটা মুহূর্তে জন্মভূমির প্রতি একটা নিগূঢ় মায়া, টান ও গর্ব অনুভব করি এই ভেবে যে আমার জন্মস্থান টাঙ্গাইলের মত একটি সুপ্রসিদ্ধ শিক্ষার মানদন্ডে উন্নত একটি জেলায়। প্রতিটা ক্ষেত্রে আমার
জন্মভূমি টাঙ্গাইলের পরিচয় দিতে আমি খুব গর্ববোধ করি। শিক্ষা, সংস্কৃতিতে আমার জন্মভূমি টাঙ্গাইল বাংলাদেশের অনেকগুলো উন্নত জেলার মধ্যে অন্যতম। আমার নানা মরহুম সামান আলী আহমেদ ও আমার দাদা মরহুম মওলানা আবদুল গফুর ছিলেন আত্মমর্যাদায় চলা উন্নত মনমানসিকতার দুই ব্যক্তি। উনারা দুজনই শিক্ষক ছিলেন ।শিক্ষার প্রতি উনাদের ছিল বিশেষ অনুরাগ। শত প্রতিকূলতা পেরিয়েও উনারা সন্তানদের শিক্ষিত করে গেছেন। উনাদের নাতনী হিসেবে আমি তাই গর্বিত।

টাঙ্গাইল জেলাটি বিখ্যাত জেলা কারণ এর ভৌগলিক অবস্থান, বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ, বিখ্যাত স্থান, বিখ্যাত খাবার, বিখ্যাত পণ্য, আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। টাঙ্গাইল জেলা ঢাকা বিভাগের অন্যতম একটি প্রশাসনিক অঞ্চল টাঙ্গাইল একটি “এ” শ্রেণীভূক্ত জেলা। টাঙ্গাইল জেলা নদী সমৃদ্ধ কৃষিপ্রধান অঞ্চল। টাঙ্গাইল জেলা অন্যতম বৃহৎ নদী যমুনার তীরে অবস্থিত।টাঙ্গাইল জেলায় উপজেলা মোট ১২টি। ১১ই ডিসেম্বর টাঙ্গাইল মুক্ত দিবস। একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কবল থেকে টাঙ্গাইলকে মুক্ত করে উত্তোলন করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের আগেই শত্রুমুক্ত হয় টাঙ্গাইল।

টাঙ্গাইল জেলার বিখ্যাত কয়েকজন ব্যক্তি বর্গের নাম এখানে উল্লেখ করলামঃ

আলেম-উদ-দহর (জ্ঞান সমুদ্র) নামে খ্যাত আল-কুরআনের প্রথন বাংলা অনুবাদক মৌলভী নঈম উদ্দীন।

সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী- ধনবাড়ীর নওয়াব ও ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী- নওয়াব আলী চৌধুরীর কনিষ্ঠ পুত্র

আব্দুল হামিদ খান ভাসানী- ব্রিটিশ আমলের ভারত উপমহাদেশের অন্যতম এবং বিশিষ্ট তৃনমূল রাজনীতিবিদ ও গণ-আন্দোলনের নেতা।

অমৃতলাল সরকার – ভারতীয় উপমহাদেশের বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব, বিপ্লবী।

প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সেবী, রাজনীতিবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা – বিখ্যাত সমাজ সেবক এবং দানবীর ব্যক্তি।

কানাই লাল নিয়োগী – ভাষা আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিত্ব।

প্রতুল চন্দ্র সরকার – বিখ্যাত যাদুকর। (পি.সি )

বেগম ফজিলাতুন্নেসা – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান ছাত্রী ও ঢাকা ইডেন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ।

শামসুল হক – বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। আওয়ামী মুসলীম লীগ।

আবু সাঈদ চৌধুরী – বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি।

প্রতিভা মুৎসুদ্দী – শিক্ষাবিদ ও ভাষা সংগ্রামী।একুশে পদক প্রাপ্ত।

রফিক আযাদ – কবি, মুক্তিযোদ্ধা, সম্পাদক।

বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী- মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সমর নায়ক। বাঘা কাদের নামে পরিচিত- তাঁর নেতৃত্বে কাদেরিয়া
বাহিনী গড়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের সময়।

মামুনুর রশিদ – প্রখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক।

মান্না – চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক, আফরান নিশো। এরং আরো অনেক অভিনেতা,অভিনেত্রী এবং আরো অনেক প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, কবি ও সাহিত্যিক এবং বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ।

ডঃ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য- বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ।রিসার্চ ফেলো অফ সিপিডি।

 

 চলবে…

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
02 June 2026

স্মৃতির টানে কিছু কথা (১ম পর্ব)- কানিজ কাদীর

chitrodesh.com