প্রধান সংবাদসাক্ষাৎকার

আধ্যাত্মিক এবং সুফিবাদী ধারার নিভৃতচারী কবি মেহেবুব হক

লাবণ্য হক:
মেহেবুব হক এমন একজন কবি যিনি শব্দের কারুকাজে আত্মার খোরাক জোগান এবং সুফিবাদের প্রেমময় বার্তাকে আধুনিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

কবি মো: মেহেবুব হক মূলত সমসাময়িক আধ্যাত্মিক এবং সুফিবাদী ধারার একজন নিভৃতচারী লেখক ও চিন্তক। তার লেখনীর মূল বিষয়বস্তু হলো অন্তরের পরিশুদ্ধি এবং স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির গভীর সম্পর্ক।

কবি মো: মেহেবুব হকের কবিতার ধরন:

তার কবিতাগুলো সাধারণ প্রথাগত কবিতার চেয়ে একটু ভিন্ন। তার কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

আধ্যাত্মিকতা (Spirituality): তার কবিতার মূল ভিত্তি হলো আধ্যাত্মিকতা। তিনি মানুষের বাহ্যিক রূপের চেয়ে ভেতরের মানুষের জাগরণ নিয়ে বেশি লিখেন।

সুফিবাদী দর্শন: তার লেখায় রুমি, হাফিজ বা লালন শাহের দর্শনের একটা আধুনিক ছাপ পাওয়া যায়। তিনি প্রেম, বিরহ এবং পরমাত্মার সন্ধানে ব্যাকুলতা প্রকাশ করেন।

সহজবোধ্য ভাষা: গূঢ় তত্ত্ব নিয়ে লিখলেও তার ভাষা বেশ সাবলীল, যা সাধারণ পাঠকের মনে রেখাপাত করে।

মানবিকতা ও নীতিবোধ: মানুষের সাথে মানুষের সদ্ভাব এবং আত্মিক উন্নয়ন নিয়ে তিনি উপদেশমূলক ও অনুপ্রেরণামূলক কবিতা লেখেন।

সুফিবাদে তার অবদান:
সুফিবাদ বা তাসাউফ নিয়ে তার কাজগুলোকে মূলত ‘আধুনিক প্রেক্ষাপটে সুফিবাদী চিন্তার প্রচার’ হিসেবে দেখা হয়। তার অবদানগুলো হলো:

তত্ত্বকে সহজীকরণ: সুফিবাদের কঠিন পরিভাষাগুলোকে তিনি কবিতার ছন্দে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তুলে ধরেছেন।

প্রেমের দর্শনের বিস্তার: সুফিবাদের মূল মন্ত্র হলো ‘ইশক’ বা প্রেম। মেহেবুব হক তার লেখনীর মাধ্যমে ঘৃণা ও বিভেদ ভুলে স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

তরুণ প্রজন্মকে আকর্ষণ: বর্তমান সময়ে যখন মানুষ যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে, তখন তার কবিতা তরুণদের একটু আত্মিক প্রশান্তির পথ দেখায়।

সামাজিক সংস্কার: তিনি সুফিবাদকে শুধু তসবিহ জপ বা খানকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে একটি মানবিক জীবনদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন।

কবি মোঃ মেহেবুব হকের কবিতার সাহিত্যমূল্য বিচার:

ছবি: কবি মেহেবুব হক

কবি মোঃ মেহেবুব হকের কবিতার সাহিত্যমূল্য বিচার করলে দেখা যায়, তাঁর রচনায় প্রেম, আধ্যাত্মিকতা, মানবতা ও দর্শনের গভীর প্রক্ষেপণ রয়েছে। তিনি আধুনিক বাংলা কাব্যে এক মননশীল কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যাঁর কবিতায় আবেগ ও বোধ একসূত্রে মিলে মিশে এক অনন্য ব্যঞ্জনা তৈরি করে।

ভাবমূল্য ও বিষয়বস্তুর গভীরতা:

মেহেবুব হকের কবিতায় প্রেম, বিরহ, সমাজ-সংকট, আত্মদর্শন, ঈশ্বরচেতনা, এবং সুফিবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত। তাঁর কবিতা মানব-মনস্তত্ত্বকে গভীরভাবে অনুসন্ধান করে এবং একটি অন্তর্গত জিজ্ঞাসা পাঠকের মধ্যে জাগিয়ে তোলে।

উদাহরণস্বরূপ, ‘ভালোবাসার নীলপদ্ম’ কাব্যগ্রন্থে তিনি ভালোবাসাকে কেবল রোমান্টিক পরিসরে নয়, আত্মিক পরিসরেও বিশ্লেষণ করেছেন।

ভাষাশৈলী ও কাব্যিক অলংকার

তাঁর কবিতার ভাষা সহজ, সংবেদনশীল এবং আবেগঘন, কিন্তু একই সঙ্গে বিমূর্ত ও ব্যঞ্জনাময়। প্রতীক, রূপক, উপমা, অনুকরণ—alliteration ইত্যাদি অলঙ্কারের দক্ষ ব্যবহার তাঁর কবিতাকে শৈল্পিক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ছন্দ ও নির্মাণশৈলী:

তিনি মূলত মুক্তছন্দে কবিতা লিখলেও ছন্দের দোলায় কবিতার গতি ও সুর বজায় রাখেন। গদ্যছন্দেও তাঁর কবিতা গীতিময়তা হারায় না। এই দিক থেকে তাঁর কবিতা আধুনিক ও কাব্যিক সমন্বয়ের উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।

দর্শন ও চিন্তাভাবনার প্রকাশ:

তাঁর কবিতায় ইসলামী সুফিবাদ, প্রেম-দর্শন ও দার্শনিক ভাবনার স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। যেমন, ঈশ্বরানুসন্ধান, আত্মদর্শন, এবং মানবিক দায়িত্ববোধ – এইসব বিষয়ে তিনি নিঃসঙ্কোচে ও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখেন।

সাহিত্যিক অবদান ও প্রভাব:

তিনি বাংলা সাহিত্যে একজন সমকালীন চিন্তাশীল কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তাঁর লেখায় একটি শুদ্ধ আত্মিক জগৎ খুঁজে পাওয়া যায়, যা বাংলা কাব্যে বিশেষ মূল্য সংযোজন করেছে।

কবি মোঃ মেহেবুব হকের কবিতা মানসিক ও আত্মিক অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ। সাহিত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর কবিতা পাঠকের চিন্তার গভীরতা বাড়ায় এবং অন্তর্দৃষ্টি প্রসারিত করে। বাংলা সাহিত্যে তিনি একজন ব্যতিক্রমী কণ্ঠস্বর, যাঁর কবিতা যুগ-সচেতন, প্রেমনিবেদিত এবং আধ্যাত্মিক ব্যঞ্জনাপূর্ণ।

ইতিমধ্যে কবি মেহেবুব হক, কাব্যসাহিত্যে অবদানের জন্য ‘জাতীয় সাহিত্য পুরস্কার’ও সনদপত্র পান। এছাড়াও ‘সাহিত্য দিগন্ত লেখক পুরস্কার- এর ‘বর্ষসেরা কবি-, ৮ম ‘ফ্রেন্ডস অব হিউম্যানিটি আ্যওয়ার্ড- এর ‘বর্ষসেরা কবি-২০২২পুরস্কার, ফ্রেন্ডস অব হিউম্যানিটি আ্যওয়ার্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড , সম্মাননা সনদসহ ফেলোশীপ অর্জন করেন ।

কবি মো: মেহেবুব হক ছোটবেলা থেকেই তিনি সাহিত্যনুরাগী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি লেখালেখি করতেন। তবে কর্মজীবনে প্রবেশের পরই তার সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ হতে থাকে এবং ২০১৯ সাল হতে তার প্রকাশনা শুরু হয়। তিনি প্রেম, বিরহ, দ্রোহ, সুফিজমসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করে ব্যস্ত সময় পার করেন। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫ টি।

মো. মেহবুব হকের কর্মস্থল, শিক্ষা ও অর্জিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সমূহ:

• যুগ্ম কমিশনার: কাস্টমস ও ভ্যাট, ৩০তম বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ) ক্যাডার।
• জাতীয় বাজেট সমন্বয়কারী: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)।
• দ্বিতীয় সচিব: ভ্যাট (গোয়েন্দা ও তদন্ত) এবং ভ্যাট (বিচার ও আপিল), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
• বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET)।
• পাবলিক ফিন্যান্স ম্যানেজমেন্ট কোর্স (অনলাইন): আইএমএফ (IMF) ইনস্টিটিউট, ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র।
• এলএলবি (LLB): ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন (অধ্যয়নরত)।
প্রশিক্ষণ
• রাজস্ব ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ: ব্যাংকক, থাইল্যান্ড।
• এনহ্যান্সড ট্রেনিং প্রোগ্রাম: সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া।
• ইউএনওডিসি (UNODC) সম্মেলন: নয়াদিল্লি, ভারত।
• ভ্যাট অনলাইন প্রশিক্ষণ: ঢাকা।
• পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট (PCA) প্রশিক্ষণ: চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।
• মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কোর্স: সিআইআইডি (CIID), ঢাকা, বাংলাদেশ।
• ই-অকশন (E-auction) প্রশিক্ষণ: এনবিআর ও ইউএসএআইডি (NBR-USAID)-এর যৌথ উদ্যোগে।
বিশেষজ্ঞতা
• কাস্টমস, ভ্যাট এবং বন্ড বিশেষজ্ঞ।
• এনবিআর-ইউএসএআইডি স্বীকৃত TOT (ট্রেইনার অব ট্রেইনার্স), ই-অকশন।
• বিপিটিএসি (BPTAC) এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পেশাদার প্রশিক্ষক।

শেষ কথা
কবি মোঃ মেহেবুব হক। পেশায় একজন কাস্টমস কর্মকর্তা হলেও তিনি মূলত মানবতার কবি। মেহেবুব হক মানব প্রেম এবং মানবতা নিয়ে লিখে চলেছেন অবিরাম। স্ত্রী আর সন্তানের অনুপ্রেরণায় মূলত তার লেখালেখির জগতে আসা। মানবতার কবি লিখে চলেছেন মানুষের কথা। মানুষ হয়ে মানবীয় গুণাবলি অর্জন করে প্রকৃত মানুষ হতে না পারলে মানবজীবনের সার্থকতা থাকে না- সেই বোধশক্তি জাগ্রত করার জন্য তিনি বারবার সমাজের মানুষকে আহ্বান করেছেন তাঁর কবিতার ছন্দে।

 

Related Articles

Back to top button