অর্থ-বাণিজ্যপ্রধান সংবাদ

স্বস্তি দিচ্ছে পেঁয়াজ-রসুন

স্টাফ রিপোর্টার:
একদিকে মহামারি করোনাভাইরাসের আতঙ্ক, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে বড় ধরনের চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ। এ পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম। করোনাভাইরাসের কারণে কয়েক দফা উত্থান-পতন হওয়া পেঁয়াজ ও রসুন এখন তুলনামূলক কম দামেই পাওয়া যাচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার বেশ অস্থির। চাহিদা বাড়লেই পণ্যের দাম হুটহাট করে বেড়ে যাচ্ছে। আবার চাহিদা কমলে দাম কমে যাচ্ছে। এর আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এত অস্থিরতা দেখা যায়নি।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর যে কয়টি পণ্যের দামে ব্যাপক উত্থান-পতন হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি পণ্য পেঁয়াজ ও রসুন। গত সাড়ে তিন মাসে অন্তত ১০ বার এই দুটি পণ্যের দাম উঠা-নামা করেছে। তবে বর্তমানে পণ্য দুটি সব থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি করছেন ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত রফতানি বন্ধ করলে দেশের বাজারে হু হু করে দাম বেড়ে পেঁয়াজের কেজি ২৫০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। এরপর সরকারের নানামুখী তৎপরতায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে।

আর চলতি বছরের মার্চের শুরুতে রফতানি বন্ধের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ভারত। ভারত রফতানি বন্ধের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর দেশের বাজারে দফায় দফায় কমতে থাকে পেঁয়াজের কেজি। কয়েক দফা দাম কমে পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকায় নেমে আসে।

কিন্তু করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে আবার বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম। ৪০ টাকার পেঁয়াজ এক লাফে ৮০ টাকায় উঠে যায়। এ পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে ভোক্তা অধিদফতর ও র‌্যাব। পেঁয়াজের বাজারে চলে একের পর এক অভিযান। এতে আবারও দফায় দফায় দাম কমে পেঁয়াজের কেজি ৩০ টাকায় নেমে আসে।

তবে রোজার আগে আবারও অস্থির হয়ে উঠে পেঁয়াজের বাজার। কয়েক দফা দাম বেড়ে রোজার শুরুতে পেঁয়াজের কেজি ৫৫ টাকায় পৌছে যায়। এরপর রোজার মাঝামাঝি সময়ে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে ৪৫ টাকায় নেমে আসে। এ পরিস্থিতে ঈদের আগে আবার দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা হয় পেঁয়াজের কেজি। তবে ঈদের পর দাম কমে পেঁয়াজের কেজি আবার ৪০ টাকায় নেমে আসে।

অবশ্য এ দামও বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। জুনের মাঝামাঝি সময়ে আবার পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৫৫ টাকায় উঠে। তবে সপ্তাহ দুইয়ের ব্যবধানে আবার কমতে থাকে পেঁয়াজের দাম। দাম কমার সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফলে আমদানি করা পেঁয়াজ ২০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা কেজি কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর থেকেই পেঁয়াজের মতো রসুনের দামে অস্থিরতা দেখা দেয়। করোনা প্রকোপ শুরুর আগে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া রসুনের দাম দফায় দফায় বেড়ে এপ্রিলে ১৮০ টাকা হয়ে যায়। এরপর ছোটখাটো উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে মে মাসে রসুনের কেজি ১২০ টাকায় নেমে আসে।

অবশ্য ঈদের আগে আবার বাড়ে রসুনের দাম। কয়েক দফা বেড়ে ঈদের আগে রসুনের কেজি আবার ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে ঈদের পর থেকেই রসুনের দাম কমছে। ধারাবাহিকভাবে কমে আমদানি করা রসুনের কেজি এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে।

 

চিত্রদেশ//এস//

আরও

Leave a Reply

Back to top button