মুক্তমত

প্রসঙ্গঃ অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও কিছু কথাঃ

হুমায়ূন কবীর হিমু

বইমেলায় এবারে বই বিক্রি হয়েছে ৮২ কোটি টাকার। টাকার অংক দেখলে মনে হতেই পারে,বাংলাদেশের মানুষ এখনও তাহলে বই পড়ে! এবারের মেলায় নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে ৫ হাজারের উপরে! এই বিষয়টিও আমাকে বিস্মিত করেছে! ৫ হাজার নতুন বই প্রকাশ পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়! ৫ হাজার নতুন বই যদি ৫ হাজার মানুষ লিখে থাকে তাহলে অনুমান করা যেতে পারে দেশে ৫ হাজার নতুন লেখকের আবির্ভাব হয়েছে এবারের বইমেলায়! ৫ হাজার লেখক! এই ৫ হাজার নতুন বইয়ের মাঝে আমারও একটা নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে। ৫ হাজার নতুন লেখকের মধ্যে আমিও একজন। লেখালেখির সমুদ্রে সেই স্কুল লাইফ থেকে গা ভিজানোর অভ্যাস থাকলেও ডুব দিয়ে গোসল করা শুরু করেছি ২০১৬ থেকে। অর্থাৎ ২০১৬ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আমার প্রথম উপন্যাস ‘ভালোবাসায় লোডশেডিং’ প্রকাশিত হয়। তার পর এক এক করে ‘ভালোবাসায় বজ্রপাত'(২০১৭),’একজন মতি মাস্টার'(২০১৮),’রাত্রির সাতকাহন’,(২০১৯)’ভালোবাসায় নিম্নচাপ’ (২০১৯) এবং সর্বশেষ এবারের বইমেলায় ‘কবি’ (২০২০) সর্বমোট ৬ টি উপন্যাস আমার প্রকাশিত হয়েছে।
যেহেতু মেলায় ধারাবাহিক ভাবে আমার বই প্রকাশ হয় সেই সুবাদে মাঝে মধ্যে বইমেলায় যেতে হয়। মেলায় গিয়ে যে দৃশ্যটি দেখে খুব বিস্মিত হই তা হলো মেলায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হলেও কার হাতে বইয়ের ব্যাগ চোখে না পরা! মেলার শেষের দিকে মেলায় প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম হলেও বই কিনে বাড়ি ফিরছে,এমন দৃশ্যের বড়ই অভাব দৃষ্টি গোচর হয়। এ থেকে বোঝা যায়,বাঙ্গালি বইমেলাকে ভালোবেসে বই মেলায় উপস্থিত হলেও পকেটের টাকা খরচ করে বই কিনে পড়ার অভ্যাসটা অনেক আগেই বিসর্জন দিয়েছে। মেলায় তারা বই কিনতে আসে না আসে ঘুরতে। আর তরুণ তরুণীরা আসে টাংকি মারতে। তরুণীরা পছন্দের শাড়ি পরে মুখে রঙচঙ মেখে,মাথায় ফুলের রিং লাগিয়ে আর বাংলার নায়কেরা বাহারি পাঞ্জাবি,চোষ পায়জামা,পায়ে চটি লাগিয়ে প্রিয়ার কোমর ধরে বইমেলায় প্রবেশ করে দুই একটা বইয়ের দোকানে ঢু মেরে,হুমায়ুন আহমদ স্যার বা জাফর ইকবাল স্যারের একটা বই কিনে প্রিয়ার হাতে তুলে দিয়ে কলম্বাসের ন্যায় আমেরিকা আবিস্কারের বিজয়ের হাসি মুখে ফুটিয়ে চলে যায়। বইমেলায় বইয়ের স্টল সংখ্যা কয়েক’শ থাকলেও পাঠকদের ভীড় হয় হাতে গোণা কয়েটি স্টলে। সেই সব স্টলেই ভীড় হয় যে স্টলে হুমায়ুন স্যার, জাফর ইকবাল স্যারসহ হাতে গোণা কয়েকজন লেখকের বই পাওয়া যায়। বাংলার পাঠকেরা এখনও কয়েকজন লেখকের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। নতুন লেখকদের বইয়ে তাদের আগ্রহ খুব একটা লক্ষনীয় নয়। হুমায়ুন আহমেদ স্যারের জীবিত থাকতে যেমন জনপ্রিয় ছিলো, মরে যাওয়ার পরেও তিনি এখনও জনপ্রিয়তায় শীর্ষে।
এখন এই সময়ের পাঠকদের কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ‘আপনারা যদি সেই বিখ্যাত আর সেই জনপ্রিয় লেখকদের বই-ই সংগ্রহ করেন বা কিনেন, তাহলে প্রতি বছর বছর যে পরিমান নতুন বই প্রকাশ হয়, নতুন লেখকদের আবির্ভাব হয়, সেই সব বই আর লেখকদের কি হবে?
আপনারা কি দেশে আর কোন হুমায়ুন আহমেদ বা হুমায়ুন আজাদ তৈরিতে অংশ নিবেন না?
নতুন লেখকদের মাঝেও অনেক হুমায়ুন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদ, ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক, জাফর ইকবাল লুকিয়ে আছে। তাদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়ার দ্বায়িত্ব তো আপনার।

লেখক: উপন্যাসিক হুমায়ূন কবীর হিমু

 

আরও

Leave a Reply

Back to top button