মুক্তমত

ছুটি কাটাতে ছুটোছুটি নয়, ঘরে থাকুন

শান্তা মারিয়া

ছুটি বলতে এদেশের মানুষ একটা কথাই বোঝে। সেটি হলো ফূর্তি এবং ফূর্তি করতে করতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া। হায় রে মূর্খ। আজ যেভাবে মানুষ গণ পরিবহন ব্যবহার করে ঢাকা থেকে গ্রামে যাচ্ছে তাতে শংকা হচ্ছে যে আজই অসংখ্য মানুষ করোনায় আক্রান্ত হবে। দরকার বলা যে, বাড়িতে থাকো। বাড়ির বের হবা না। কিন্তু কে শোনে কার কথা। আমরা কথায় কথায় চীনের সঙ্গে, কানাডার সঙ্গে, রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা দিচ্ছি। কিন্তু চীন যেভাবে লক ডাউন করেছিল সেটা মেনে চলার মতো বোধবুদ্ধি এদেশের জনগণেরই নাই। আধা শিক্ষিতরা বেশি মূর্খ। বিদেশফেরত বেশিরভাগই আধা শিক্ষিত। এরা সবচেয়ে ভয়ংকর। এরা বিদেশ থেকে ব্যাঙের আধুলি উপার্জন করে মনে করে আমি কি হনু রে। বিদেশে তারা থাকে চাপের মধ্যে। দেশে এসে তারা কোন নিয়মই মানতে চায় না। আর আমাদের দেশের ধর্ম-মূর্খরা মনে করে তাদের কোন রকম বুদ্ধি বিবেচনা প্রয়োগের দরকার নাই। তারা নাকি আপনা থেকেই রক্ষা পাবে। আল্লাহ সেই জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ সে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন না করে। মানুষের ঘাড়ের উপর যে মাথাটা রয়েছে সেটা খালি শোভা বর্ধনের জন্য নয়। সেটা কাজে লাগাতেও হয়। এদেশের মানুষের মুখ দিয়ে খালি থুতু বের হয়। তারা সেটা ফেলতে ফেলতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছে। কাশতে কাশতে, কাশি ফেলতে ফেলতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছে গিয়েই আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে জড়াজড়ি করবে। এক পাতে মুড়ি মাখিয়ে খাবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কার মুরগি কয়টা ডিম পেড়েছে সেই আলাপে দিন পার করবে। গ্রামের মসজিদে একসঙ্গে নামাজ পড়বে। বিয়ে শাদিও করে ফেলতে পারে। একটা আশার কথা এই যে, করোনা নাকি গরু ছাগলকে এখনও আক্রমণ করে নাই। বাংলাদেশের মানুষের আচরণ দেখে করোনা যদি তাদের গরু ছাগল ভেবে ভুল করে আক্রমণ না করে সেটাই রক্ষা। এদের কে কেমনে বুঝাবে যে, ছুটি মানে ছুটি নয়। এ ছুটি ফূর্তির নয়। এ ছূটি ঘরে অবরুদ্ধ থেকে দেশকে করোনা মুক্ত করার যুদ্ধ।

 

লেখক পরিচিত: লেখক ও সাংবাদিক

আরও

Leave a Reply

Back to top button