সাহিত্য

গল্প ‘অসহায় আমরা’

কানিজ কাদীর

তিন বছরের মেয়ে। চোখ তুলে ফেলতে হবে। এ কি করে হয়। মায়ের চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছিল। ‘আপা আমার মেয়ে চোখ তুলে ফেলার পর বাচঁবে তো? আমার সন্তান তবু বেচেঁ থাক।’ মায়ের এই করুণ আকুতি আমাকে বেশ আবেগ আপ্লুত করে ফেলল। কত রকমের চোখের রোগীর অপারেশনের জন্য  প্রিএনেস্হেটিক চেকআপ দিতে হয়। রোগীর ফুসফুস, হৃৎপিন্ড ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখে সব ঠিক থাকলে তবেই রোগী অচেতন করে অপারেশন করা যাবে। বাচ্চাটির ফুসফুস ও হৃৎপিন্ড পরীক্ষা করে বাচ্চাটির মাকে বললাম- ‘ রোগী ভালো আছে। ওকে অপারেশনের জন্য অচেতন করা যাবে। আপনি তো সবই জানেন। আর কী বলব।’ ফুটফুটে মেয়েটি। চোখ দুটো বেশ বড় । এক রোগ ওর চোখে দানা বেঁধেছে। রেটিনোব্লাসটোমা। চোখের ক্যান্সার । এর জন্য চোখ তুলে ফেলতে হয়। তা না হলে রোগীর ব্রেইনে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে রোগী মারা যায়। রোগটি সাধারণত নিম্ন আয়ের লোকের পরিবারেই বেশি দেখা যায়। অনেক অনেক রোগী আসে আমার কাছে। এরকম রোগী আরো এসেছে। এ বাচ্চাটিকে দেখে এত খারাপ লাগছে কেন! এই নিষ্পাপ শিশু! কোন পাপে ওকে এই শাস্তি পেতে হচ্ছে কে যানে। ওর মা’র করুণ আকুতি আমাকে বার বার নাড়া দিচ্ছিল। অন্তর কেঁপে উঠছিল। আমরা কতটা অসহায় বিধাতার ইচ্ছার কাছে। আমারদের কিছুই করার নেই শুধু ক্ষমা চাওয়া ছাড়া।

-২ নভেম্বর ২০১০

লেখক- কানিজ কাদীর

আরও

Leave a Reply

Back to top button