সাহিত্য

কানিজ কাদীরের ভ্রমণ কাহিনী-‘মাদুরাই’ (৮ম পর্ব)

একেবারে রেডি হয়েই নীচে নেমেছিলাম। নিচে রিসেপশনের সামনের সোফায় বসে ম্যানেজারের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। গতকালের মহিলাটাকে বললাম ‘হু উইল ইন্ট্রোডিউস মি হসপিটাল হোয়ার ইজ ম্যানেজার.” মহিলাটি আমাকে বললো ”ইউ গো টু লাইকো রিসেপশন এট ৮.৩০ এ.এম।

আমি সকাল ৮-৩০টার দিকে লাইকো তে যাওযার জন্য বের হলাম। প্রচন্ড রোদ। সবাই বলে দিয়েছিল ছাতা নিয়ে আসার জন্য। ভাগ্যিস ছাতা নিয়ে এসেছিলাম। লাইকো এর গেটে ঢুকতেই দেখি এরাে চিহ্ন দেয়া । এমন সময় দেখি একজন সিস্টার সে দিকেই ঢুকছে। সে আমাকে ওনার সাথে নিয়ে গেল। রিসেপশনে তখনও কেউ আসে নাই। কয়েকজন মহিলা কর্মচারী দেখলাম। ওরা সবাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, গোছগাছ করছিল। ওদেরকে বললাম যে আমি বাংলাদেশ থেকে এখানে ট্রেনিংয়ে এসেছি। ওরা আমার কথা খুব বুঝল না। আমাকে বেতের সোফা দেখিয়ে দিল ৯টা পর্যন্ত বসে অপেক্ষা করার জন্য। সত্যিই ঠিক ৯টায় দেখলাম রিসেপশন ডেস্কে বোরখা পরিহিতা একজন মুসলমান মহিলা এসে বসলো। সে এসেই তার বোরখাটা খুলে ফেললো।একটু পরে আমি নিজেকে ইন্ট্রোডিউস করে আমার কাগজপত্র উনার কাছে দিলাম। উনি ফোনে কথা বলে আমাকে অপেক্ষো করতে বললো। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন নার্স এলো। আমাকে সাথে নিয়ে অরভিন্দ আই হসপিটালের আউট প্যাশেন্ট ব্লকের দোতলায় নিয়ে গেল। সেখানে আমাকে রিসেপশন দিলেন ডা. বিজয় লক্ষী( চক্ষু বিশেষজ্ঞ)  ও আর এক ডাক্তার। আমাকে বিজয় লক্ষী ম্যাডাম হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করলেন। আমিও হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললাম ”থ্যাঙ্কইউ, নাইস টু মিট ইউ”.

পরে প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর চন্দ্রা আমাকে উনার রুমে নিয়ে গেলেন। চন্দ্রা নিজের পরিচয় দিলেন। আমার কাগজপত্র দেখলেন। আমাকে একটা ব্যাগ দিলেন। আর একটা লগ বুক ও আরও কিছু কাগজপত্র দিলেন। মিসেস চন্দ্রা আমাকে সাথে নিয়ে কনফারেন্স রুমে আসলেন। সেখানে দেখলাম আরও কিছু ট্রেইনি আছে যারা মাদুরাই এর বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। কনফারেন্স রুমে আমাদেরকে অরভিন্দ হসপিটালের পুরা হিসট্রি ও নানা ডাইমেনশনাল এক্টিভিটিস এর ভিডিও দেখাল । একজন এসে ভিডিও এর সাথে সাথে ওদের সমস্ত সিস্টেম এর একটা চিত্র আমাদের কাছে তুলে ধরলো।মাঝখানে একঘন্টার একটা ব্রেক দিল দুপুরের খাবার খেয়ে নেবার জন্য। (চলবে)

 

লেখক: কানিজ কাদীর

 

আরও

Leave a Reply

Back to top button