সাহিত্য

কানিজ কাদীরের বন্ধুদের নিয়ে স্মৃতি কথা ‘বন্ধু’

‘বন্ধু’ শব্দটি শুনলেই মনের মধ্যে একটা আবেগ, অনুভূতি, অন্তরের টান অনুভূত হয়। বন্ধু দিবস কী জানতাম না। বন্ধু দিবস পালন কীভাবে করে তাও জানতাম না। শুধু জানি বন্ধু বন্ধুই। যার সাথে অনেক কিছু শেয়ার করা যায়। সুখ, দুঃখ, হাসি-কান্না আবেগ অনুভূতিগুলো একমাত্র প্রকৃত বন্ধুর কাছেই বলা যায়।বন্ধুদের কথা মনে হলেই সেই ছোটবেলা থেকে এ যাবৎকালের সব বন্ধুদের কথা মনে পড়ে যায়।আমি যখন ময়মনসিংহে মিশন প্রাইমারি স্কুলে পড়তাম আমার দুজন খুবই প্রিয় বান্ধবী ছিল। একজন মুসলমান নাম মিনি আর একজন খ্রিস্টান নাম শিলা। আমি, শিলা, মিনি সব সময় একসাথে থাকতাম, খেলা করতাম। মিনিদের বাসায় প্রায়ই যেতাম। ওর বড় বোনরা আমার কাছে গান শুনতে চাইত। গানের লাইন কোথাও ভুল হলে ওরা মিটি মিটি হাসত, আমি লজ্জা পেতাম। খ্রিস্টান বান্ধবী শিলাদের বাসায় প্রায়ই পিকনিক করতে যেতাম। ওদের ঘরভর্তি যিশুখ্রিস্ট ও মেরীর ছবি টানানো থাকত । ওর মা, বাবা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। অনেক অনেক মজার বিকেল কেটেছে ওদের বাসায়। এ ছাড়া আমার বাসার কাছেই থাকত আমার খ্রিস্টান কিছু বান্ধবী। ওদের নাম রেনুকা, মাধুরী, শান্তি। বাসার কাছে আমার আরো বান্ধবী ছিল এমেলি, জেসমিন, রেনেসা ওদের সাথে আমাদের বাসার সামনের মাঠটিতে বসতাম দৌড়াতাম লুকোচুরি খেলতাম। গোল্লাছুট, কুতকুত, দাড়িয়াবান্ধা, ওপেন টু বায়োস্কোপ আরো নানা ধরনের খেলা।

এছাড়াও প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় আমার আরো একটি বান্ধবী ছিল। সে ছিল ধোপার মেয়ে। সে ছিল খুব সুন্দরী। নাম ছিল হামিদা।হামিদা মাঝে মাঝে আমার সাথে আমাদের বাসায় আসত। আমার সাথে গান গাইত, মাঝে আমার সাথে আমাদের বাসায় আসত। আমরা গান গাইতাম-

‘চল চল চলরে চল
নৌকা বেয়ে যাই-
টলমল কাল জল
ভালো লাগে ভাই।
আরো কত গান-নাচ ময়ূরী নাচরে
রুম ঝুমা ঝুম নাচরে.. .. . .।

আর নাচতাম-

‘নাচে নাচে ইরানি মেয়ে
মরুবালুকায় হরষে আকুল
তাবুর পাশে যেন আজ জোছনায়. .. . .।
হামিদা আমাকে জোর করে বেশ দূরে ওদের বাসায় নিয়ে যেত। ওদের বাড়িটা ছিল কাঠের দোতলা। বড় বড় হাঁড়িতে রান্না হতো ওদের বাড়িতে। অনেক লোক একসাথে থাকত ওদের বাড়িতে। আমাকে না খেয়ে কখনোই আসতে দিত না ওর মা । হামিদা বেশি দূর পড়তে পারেনি। খুব অল্প বয়সে ওর বিয়ে হয়ে যায়। আমি যখন কলেজে পড়ি ও তথন আমাকে একটা চিঠি লিখেছিল। তার ভাষা ছিল ‘জানো আমি প্রায়ই তোমাকে স্বপ্ন দেখি। একদিন দেখলাম তুমি, আমি পরীক্ষার হলে বসে পরীক্ষা দিচ্ছি। তুমি সব উত্তর লিখে যাচ্ছো। আমি তোমাকে পিছন থেকে ডাকছি। আমার কথা তুমি একটুও শুনছো না। সত্যি তোমরা পড়ালেখা করে কত বড় হবে, আমি কিছুই করতে পারলাম না।’ সত্যিই হামিদা মেয়েটির জন্য খুব খারাপ লাগত। আমি ডাক্তার হওয়ার পর ওর সাথে একবার দেখা হয়েছিল। চারটে বাচ্চার মা হয়ে গেছে অল্প বয়সে। রক্তশূণ্যতায় ফেকাসে হয়ে গেছে। সেই অপরুপ সুন্দর হামিদা দেখতেও খারাপ হয়ে গিয়েছিল।

তারপর আমি যখন ময়মনসিংহের আবাসিক আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ে(বর্তমানে মহিলা ক্যাডেট কলেজ) পড়ি আমার বেশ কিছু বান্ধবী জুটে যায়। তার মধ্যে শাহীন, সেতারা, রিনা, নিলীমা, ফরিদা, হাবিবা, রানু অন্যতম। এদের মধ্যে অনেকেই ডাক্তার হয়েছে। রানুর সাথে আমার বন্ধুত্ব খুবই গাঢ় হয়। সব সময় একসাথে থাকতাম। কুটকুট করে কত গল্প করতাম। এই রানুও ওর এক গৃহ শিক্ষকের সাথে প্রেম করে মেট্রিক পাস করার পরই বিয়ে করে ফেলে। ওর জীবনটাই নষ্ট হয়ে গেল। খুব ভালো ছাত্রী ছিল। ওরা বাবা ছিলেন ময়মনসিংহের নামকরা স্কুলের একজন শিক্ষক। দুভাই ডাক্তার হয়েছিল। ও এখন কোথায়, কেমন আছে জানি না। এরপর আমি যখন মুমিনুন্নিসা মহিলা কলেজে, ময়মনসিংহে ভর্তি হলাম মনিরা ও ফরিদার সাথে আমার খুব ভাব হলো। মনিরার সাথে যে কত গল্প করেছি। গল্প করতে করতে কলেজের মাঠের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে চলে গেছি।
সেই মনিরা পরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। ওর ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবে। ওর তিন বোনই ডাক্তার। ফরিদা আমার স্কুল জীবন থেকেই বান্ধবী ছিল।কলেজে এসে ওর সাথে আরো নিবিড় বন্ধুত্ব হলো। ওর বড় বোন আমাদের টিচার ছিলেন। আমি ওদের বাসায় যেতাম ও আমাদের বাসায় আসত। ওর সাথে আমার বেশ কিছু ছবিও ছিল। আমাদের মধ্যে খবরাখবর/আদান প্রদান হতো  ওর এক ভাগ্নের মাধ্যমে। তখন তো আর এখনকার মতো মোবাইল, টেলিফোন ছিল না। তবুও এই আদান-প্রদানের মধ্যেও ভালোলাগার সীমা ছিল না। ফরিদারও খুব বেশি পড়াশোনা হয়নি। অনার্স পড়াকালীন ওর বিয়ে হয়ে যায়।ও ময়মনসিংহে থাকে। ওর সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই।কিন্তু ওর কথা মনে হলেই সেই কলেজ জীবনের কত যে স্মৃতি, কত ছবি মনে ভেসে ওঠে। এছাড়া ঢাকার ঋষিকেশ দাস রোড থেকে আগত নতুন একটা মেয়ে-যার নাম ছিল মিনি, তার সাথেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ও আবার ঢাকা চলে যায়।ওর সাথে আর কখনও যোগাযোগ হয় নাই।

এরপর আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হই।পরিচয় হয় আনুর সাথে। বন্ধুত্ব হয় আনুর সাথে।আজ এত বছর পর ঐসব বান্ধবীর মুখগুলো প্রায়ই আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মুখগুলো কেমন যেন ঝাপসা। কিন্তু ওদের মুখের নানা রকমের গল্পকথাগুলো যেন ফিরে ফিরে বারবার বাতাসে মিশে যায়।আমি যেন কান পেতে সেগুলো শোনার চেষ্টা করি। তাই তো তােমাদেরকে আমি এখনো ভাবি এই ভাবে-

আমি খুঁজছি তোমাদের-
আকাশে বাতাসে তোমাদের শব্দ,
আমি কান পেতে শুনি-
শুনতে পাই অস্পষ্ট ধ্বনি,
কত যুগ আগে হয়েছিল সৃষ্টি সে শব্দ।।
এখনো তা ভেসে আসে।
বাতাসে দোল খায়।
শব্দগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে যায়,
কোথায় কোন সুদূরে-
কিছু ধ্বনি তার রয়ে যায়।
সে ধ্বনি যেন বাতাসে ছন্দ তোলে রিনিক ঝিনিক।
আমার হৃদয় সে ছন্দে চিন চিন করে ওঠে,
কতগুলো কিচিরমিচির মুখ ভেসে ওঠে।।
আহা কত না মিষ্টি মধুর।
মাধুরী, শান্তি, রেণুকা, রেনেসা,এমেলি, জেসমিন
শিলা, মিনি, ফরিদা, মনিরা, সালেহা, রানু, আনু।
আরো তোমরা বন্ধুরা-
তোমাদের স্নিগ্ধ, মায়াভরা মুখ
হাসি, কথা, কল-কাকলী,
কত না ছিল প্রিয় আমার।
তাই তো তোমাদের আবছা চেহারায়,
আমি খুজেঁ বেড়াই ক্ষণে ক্ষণে সেই সব ধ্বনি।

আমি যখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হই আমার যেন কেমন একাকী লাগছিল। আনু আমার বাসার কাছেই থাকত। আমি প্রথমেই অনেক সময় সহজ হতে পারি না। তাই বন্ধুত্ব করতে আমার বেশ সময় লেগে যায়। কিন্তু একবার কারো সাথে সহজ হয়ে গেলে আমার তার সাথে খুব বন্ধুত্ব হয়ে যেত।

আমার বাড়ি ছিল টাঙ্গাইল জেলায়। আনুর বাড়িও টাঙ্গাইল জেলায়। আমি জানতাম না। আব্বা ওর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন।আমরা একসাথে রিকশায় প্রতিদিন মেডিকেল কলেজে আসা-যাওয়া করতে লাগলাম।ও একবেলা রিকশা ভাড়া দিত আর আমি একবেলা। আমাদের মধ্যেই খুবই বন্ধুত্ব হয়ে গেল। একসাথে ক্লাসে বসা, একসাথে সব জায়গায় যাওয়া সবই একসাথে হতো। আমি ওকে তুমি করে বলতাম। ও আমাকে তুই/তুমি করে ডাকত। ওকে আমার সব সময়ই মনে হতো ও আমার গাইড। মেডিকেল জীবনের প্রতিটা দিন যেন আনুকে ছাড়া আমার কাটতই না। এছাড়া আমার অনেক ক্লাসমেটের (রোজী, শাহীন, লাভলী, শিউলী, তাসনিম,ফরিদাসহ অরো অনেকে) সাথেও ভালো বন্ধুত্ব ছিল। কিন্তু আনু আর আমি যেন একেবারে গাটঁবাধাঁ হয়ে গেলাম। সব কিছুতেই আমরা দুজন। আনুর সাথে কত সিনেমা দেখেছি, ক্যান্টিনে, প্রেসক্লাবে একসাথে খেয়েছি। কোনো কারণে মন খারাপ লাগলেই দুজনে একসাথে প্রেসক্লাবে চলে যেতাম, ঘুরতাম, বিরানী খেতাম, আরো কত কী! কত বিকেল যে আনুর বাসায় কেটেছে তার হিসেব নেই। বাসায় পড়াশোনা করতে করতে বোরিং লাগলেই আনুর বাসায় যেতাম। গল্প করতাম, আরো অনেক মজা করতাম। আনুর বোন জেনী বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চা-নাস্তা করে খাওয়াত। গল্প করতে করতে আনু আমাকে এগিয়ে দিতে এসে একেবারে আমার বাসা পর্যন্ত চলে আসত। আবার আমি ওকে এগিয়ে দিয়ে আসতে আবার কিছুদূর পিছাতাম। কথাই যেন শেষ হয় না। আমাদের মধ্যে খাতা ও নোটের আদান-প্রদান হতো কাজের লোকের মাধ্যমে। ও ওর বাসার কাজের মেয়ে বা আমি আমার বাসার কাজের মেয়ের মাধ্যমে চিঠি লিখে কথার আদান-প্রদান করতাম। এখনকার মতো মােবাইল বা ল্যান্ড ফোনের ব্যবস্থা তখনো তো আর ছিল না। আনুর সাথে আমার বন্ধুত্ব এখনো অটুট আছে।ও ময়মনসিংহে আছে। আমি ময়মনসিংহে গেলে ওর সাথে দেখা করি।ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে আছে।আমি চাকরি, সংসার, স্বামী, সন্তান নিয়ে খুবই ব্যস্ত। আনুর সাথে মাঝে মাঝে ফোনে কথ হয়।আনুর আম্মা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। সব সময়ই হেসে কথা বলতেন। আনু ডাক্তার হওয়ার পর গলব্লাডার অপারেশন করার পর উনি মারা যান। যা ছিল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।

আমি যখন মেডিকেলে পঞ্চম বর্ষে পড়াশোনা করি। সালেহা নামে আর একটি মেয়ের সাথে আমার খুবই বন্ধুত্ব হয়। সালেহা দেখতে খুব মিষ্টি ছিল ও মিষ্টি করে কথাও বলত। ওর সাথে আমার যোগাযোগ মাঝে মাঝেই হয়। এছাড়া আমার আরেক সহপাঠী শিউলীর সাথে ও সিনিয়র বেলী আপার সাথেও আমার ভালো বন্ধুত্ব ছিল।

জীবনে বন্ধুর প্রভাব অনেক।এখনকার প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বন্ধুত্ব করতে যেয়ে অনেক সময় স্থান-কাল ভুলে যায়। একজন ভালো বন্ধু একজন মানুষের জীবনে খুবই প্রয়োজন। একজন ভালো বন্ধু যেমন কারো জীবনে প্রভাব ফেলে আনন্দে ভরিয়ে দিতে পারে তেমনি একজন খারাপ বন্ধু জীবনকে ধ্বংসের দিকেও ঢেলে দিতে পারে।তাই বন্ধুত্ব সব সময়ই বুঝেশুনেই করতে হয়। আমাদের সময় বন্ধুত্ব কিছুটা ফরমাল হলেও বন্ধুত্বের মাঝে স্বচ্ছতা ছিল, শালীনতা ছিল, গভীরতা ছিল। এখনকার প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বন্ধুত্বের ভাষা এতবেশি লাগামহীন হয় যে তা অশ্লীলতায় পরিণত হয়। স্নিগ্ধতা, কোমলতা থাকে না সেসব বন্ধুত্বের । বন্ধুত্বকে প্রশয় দিতে যেয়ে তারা অনেক সময়ই আবেগকে বেশি প্রশ্রয় দিয়ে ফেলে। আসলে বন্ধুত্ব হতে হবে নির্মল, স্বচ্ছ, পবিত্র, স্বার্থহীন, সুন্দর।

বন্ধু ছাড়া সত্যি কোনো মানুষের জীবন চলে না। জীবনে চলার পথে বন্ধুর অনুপ্রেরণা খুব প্রয়োজন। বন্ধু শুধু স্কুল কলেজেরই সীমাবদ্ধত নয়, বন্ধুত্ব আছে কর্মক্ষেত্রে, গৃহে। বন্ধুরা আছে বলেই আমরা সমাজে বাঁচতে পারি, কাজ করতে পারি। আমার চাকরি জীবনে চলার পথে অনেক বন্ধু-বান্ধবী জুটেছে। তাদের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক হয়েছে।
এখন আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু আমার সন্তান ও স্বামী। আমার সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বের বন্ধন আমাকে খুব আনন্দ দেয়।

স্বামীর সাথে মান-অভিমান আছে, দ্বন্দ্ব আছে। তারপরও তাঁর সাহচর্য আমাকে বন্ধুত্বের শীতল ছায়া এনে দেয়। তাই তো আমার সব পথচলা শেষে- আমার ঘর আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু।

সেই একই প্রশ্ন, একই উত্তর
ঘুরে আসে, ফিরে আসে, সেই ছবি।
সব কষ্ট শেষে ফিরে আসে সেই মুখ।
সেখানেই পেয়েছি সব সুখ।
খুজেঁছি অনেক প্রশ্ন,
পেয়েছি অনেক উত্তর।
মিলেছে তার একটি সারাংশ
অনুভূতির অন্তরালে একরাশ প্রশ্ন!
হাহাকার করে মিলে গেছে শূন্যে।
অবশেষে ফিরে এসেছে আবার-
সেই খুব পরিচিত এক ঠিকানায়।
বার বার প্রশ্ন করে আবার জানতে চাই
কি দরকার ছিল এত খুজঁতে যাওয়ার
উত্তর তো শুধু একটাই।

আসলে বন্ধু ছাড়া মানুষের জীবন আবেগহীন এক প্রাণ। জীবনকে সুন্দর মধুময় করতে হলে সুন্দর বন্ধুত্বের বিকল্প নেই । তাই বন্ধু দিবসে আমার আবেদন আমরা যেন সব সময়ই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেই, বন্ধত্ব দিয়ে জয় করতে পারি যেন সবার মন।

জুন,২০০৮

 


লেখক: কানিজ কাদীর

আরও

Leave a Reply

Back to top button