সাহিত্য

কানিজ কাদীরের গল্প ‘ফ্ল্যাশ ব্যাক’-৩য় পর্ব

জনপ্রিয় লেখক কানিজ কাদীর এর বন্ধুত্ব নিয়ে হৃদয় ছোঁয়া গল্প ‌‌’ফ্ল্যাশ ব্যাক’ পড়তে চোখ রাখুন ‘চিত্রদেশ’ এর সাহিত্য পাতায়।

পাঠকদের জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রতি শুক্রবার  ‘ফ্ল্যাশ ব্যাক’ প্রকাশিত হচ্ছে চিত্রদেশ’এ। আজ রইল গল্পটির -৩য় পর্ব

‘আমার নাম নাসিমা। বাড়ি ময়মনসিংহে। তুমি আমারে চিন নাই রাবু? আমি তােমারে ঠিকই চিনছি।”রাবু’ এই নাম ধরে ডাকল কে আমাকে।এই নাম ধরে অনেক দিন তো কেউ ডাকে না।”

রেবেকা অনেকক্ষণ রোগীর দিকে তাকিয়ে রইল। অবাক হয়ে বলল রেবেকা, ‘একি চেহারা হয়েছে নাসিমা তোমার! রেবেকার চোখে পানি এসে গেল। সেই ছোট্ট রেবেকা ও নাসিমার কথা মনে পড়ে গেল। সেই প্রাইমারি স্কুলের কথা মনে পড়ে গেল।

রেবেকা, নাসিমা একই সাথে প্রাইমারি মিশন স্কুলে পড়ত। রেবেকা ক্লাসে প্রথম হতো। তাই ক্লাসে রেবেকার বেশ কদর ছিল। রেবেকার সাথে নাসিমার বেশ ভাব ছিল । রেবেকার ‘মা’ নাসিমাকে ‘নূরজাহান’ বলে ডাকত। নাসিমা ছিল দর্জির মেয়ে। দেখতে অপরুপ সুন্দর ছিল। রেবেকার বাসায় নাসিমা প্রায়ই বেড়াতে আসত। রেবেকার কাছে গান ও নাচ শিখত। একটি গানের সাথে ওরা প্রায়ই নাচত। রেবেকার বেশ মনে আছে। তখন ওরা ক্লাস ফোর কি ফাইভে পড়ে।
নাচে নাচে ইরানি মেয়ে-
মরু বালুকায় হরষে আকুল।
তাবুর পাশে যেন আজ জোছনায়
রেশমী ছেলে তার বাঁশী বাজায়,
রেশমী মেয়ে তাঁর মাদল বাজায়,
তার নাচের নেশায় শিস দিয়ে যায়।
নাচে…. নাচে ইরানি মেয়ে…।

নাচ ও গান করে ক্লান্ত হলে রেবেকার ‘মা’ ওদের খেতে দিতেন। নাসিমাকে রেবেকার ‘মা’ খুব আদর করতেন। এভাবে সারা দিন মজা করার পর নাসিমাকে রেবেকা রিকশায় উঠিয়ে দিত বাসায় ফেরার জন্য। নাসিমার বাসা রেবেকার বাসা থেকে বেশ দূরেই ছিল। মাঝে মাঝে নাসিমাও জোর করে রেবেকাকে ওর বাসায় নিয়ে যেত। নাসিমার বাবা দর্জি হলে কি হবে, ওরা থাকত বেশ বড় একটা বাড়িতে। বাড়িটা ছিল কাঠের দোতলা। বেশ কয় ভাই মিলে থাকত। বড় বড় হাড়িঁতে রান্না হতো।

রেবেকার বেশ মনে আছে নাসিমাদের ঘরের মাঝখানে ছিল কাঠের সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠলেই বেশ বড় একটা কাঠের ঢাকনা। ঢাকনাটা উঠিয়ে ছাদে উঠতে হতো। ছাদের কোল ঘেঁষে ছিল বরই গাছ। পেয়ারা গাছ। রেবেকাকে নাসিমা পাকা বরই ,পেয়ারা পেড়ে দিত। রেবেকা খেত। আবার কিছু দিয়েও দিত। অবশেষে সারা দিন কাটিয়ে বাসায় ফিরত রেবেকা।

প্রাইমারি স্কুল শেষ হলে নাসিমার সাথে যোগাযোগ আর তেমনভাবে ছিল না। রেবেকা হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছে। রেবেকা যখন ক্লাস এইটে পড়ে হঠাৎ একদিন একটা কাঁচা হাতের লেখা চিঠি পেল রেবেকা। (চলবে)

 

লেখক: কানিজ কাদীর

আরও

Leave a Reply

Back to top button