
নারীদের কথা বলার জন্য নারীবাদী হওয়ার কি খুব প্রয়োজন? সমাজে নারীপুরুষ সবারই অধিকার আছে। আল্লাহতায়ালা কোরআন শরীফে বলেছেন ‘ তোমাদের যেমন অধিকার আছে নারীদের প্রতি, নারীদের ও তেমন অধিকার আছে তোমাদের (পুরুষদের) প্রতি।’ আরও আছে ‘তোমরা একে অপরের পরিপূরক।’ অর্থাৎ একটি সংসার, সমাজ নারী-পুরুষ দুইজন দুইজনের উপরই নির্ভরশীল। তবে আল্লাহতায়ালা পুরুষদের দায়িত্ব একটু বেশি দিয়েছেন। আবার নারীদেরকে দিয়েছেন ‘মা’ হবার সম্মান । এই মা হতে হলে নারীকে পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট পেতে হয়, সহনশীল ও ধৈর্য্যধারণ করতে হয়। তাই নারীদের তার যোগ্য সম্মান ও অধিকারটুকু অবশ্যই দেয়া উচিত। কিন্তু পুরুষ শাষিত সমাজ নারীকে সে সম্মান টুকু দিতে যেন দ্বিধা বোধ করে। সুযোগ পেলেই নারীকে অসম্মান করাই যেন পুরুষের কাজ। আমার শুধু পুরুষদের কাছে একটাই অনুরোধ নারীদেরকে তার যোগ্য কাজের জন্য প্রশংসিত করুন, সম্মান করুন। কটুবাক্য, শারিরীক নির্যাতন করে তাকে আপনার বাহুবল প্রদর্শন করার মধ্যে কোন বাহাদুরী নাই। কারণ আপনাদের নারীদের নিয়েই চলতে হয়। আর একটা কথা মনে রাখা উচিত ”নারীরা মায়ের জাত।” মানসিকতা উন্নত না হলে অন্যকে সম্মান দেখানো যায় না। কেউ যদি অন্তর থেকে বিশ্বাস করে কোনটা বলা অন্যায়, কোনটা করা অন্যায় তাহলেই তার বহিঃপ্রকাশ ও অন্যরকম হবে। মানসিকতার উন্নতি দরকার নারী-পুরুষ সবারই ।পুরুষদের মানসিকতার বদল খুব জরুরি। যেমন- প্রত্যেক পুরুষ যদি মনে দৃঢ়তা রাখে যে, ‘আমি কোন নারীকে অসম্মান করে কথা বলবো না।’ তাহলে তার প্রকাশটা অবশ্যই সুন্দর হবে।’ কোন স্বামী যদি ভাবে স্ত্রীকে অবদমিত করে রাখলেই সে স্বামী হিসেবে তার অবস্থান উপরে রাখতে পারবে তার প্রকাশটাও সবসময়ই অসুন্দর হবে। তাই প্রথম দরকার মানিসকতার বদল। চিন্তা চেতনায় আত্মসম্মান বোধ ও অন্যকে সম্মান দেবার ইচ্ছা। একটা পজিটিভ মানসিকতা প্রত্যেক ব্যক্তিকেই বহন করা উচিত।
