এনজিও কর্ণার

সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম থেকে মাঠ-পর্যায়ে ‘ইয়ুথ পলিসি ফোরাম’

স্টাফ রিপোর্টার:
প্রাসাদ ট্রেড সেন্টারে ৭ ফেব্রুয়ারি এবং দ্যা অলিভস হোটেলে ৮ ফেব্রুয়ারি ইয়ুথ পলিসি ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত “ফিউচার অফ আওয়ার স্টেট-ইকুয়ালিটিস অফ অপরচিউনিটিস” শীর্ষক সেমিনার ও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেসবুকে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম থেকে মাঠ-পর্যায়ে নিজের উপস্থিতি ঘোষণা করলো ইয়ুথ পলিসি ফোরাম।

পলিসি বিষয়ক আগ্রহ থেকেই এই প্লাটফর্মটির জন্ম হয়েছিল ২০১৮ সালে। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের তরুণদেরকে এবং তাঁদের ধ্যান-ধারনা, পরিকল্পনাগুলোকে একত্রিত করে দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখা। এই প্লাটফর্মে তরুণদের মাঝে ছাত্র-ছাত্রীরা ছাড়াও আছেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য বিভিন্ন পেশার মানুষ যাদের অনেকেই দেশের বাইরেও অবস্থান করছেন।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তরুণ রাজনীতিবিদেরা। এ সকল মানুষেরা পলিসি বিষয়ক ব্যাপারে কি ভাবছেন বা কি মতামত ব্যক্ত করতে চাচ্ছেন ও কি পরামর্শ দিতে চাচ্ছেন তা জানার জন্যই এই দুইদিনব্যাপী সেমিনার ও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছিল।

প্রথম দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরষ্কার প্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক আফসান চৌধুরী এবং বিশ্ববরেণ্য রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ডঃ রওনক জাহান। কনফারেন্সের প্রথম অধিবেশনে তাঁরা বাংলাদেশের ভিত্তি ও ইতিহাস এবং সেই সাথে রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থার হালচাল নিয়ে আলাপ করেন উপস্থিত শ্রোতাদের প্রশ্নের ভিত্তিতে।

একই দিনে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার-জবাবদিহিতা-তথ্য প্রাপ্তি’, ‘কূটনীতি ও নিরাপত্তা’, ‘শিক্ষা’, ‘স্বাস্থ্যসেবা’, ‘আইনের শাসন ও বিচার’, ‘অর্থনৈতিক সুযোগ ও কর্মসংস্থান’ এবং ‘অবকাঠামো ও পরিবেশ’ বিষয়ক সাতটি পলিসি ল্যাব অনুষ্ঠিত হয় যেখানে থেকে উঠে আসা সমস্যাগুলো তরুণ পলিসি বিশেষজ্ঞ ও ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা তাঁদের যারযার উদ্যোগগুলোকে উপস্থাপন করেন। সেখানে “বাংলাদেশ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল” এর ক্যাপ্টেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আরও কয়েকজন তরুণ সমাজকর্মী। এর পরপরই আবারো সাতটি পলিসি ল্যাবের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান বের করেন উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা।

সর্বশেষ সেশনে উপস্থিত ছিলেন তরুণ রাজনীতিবিদ ববি হাজ্জাজ, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ খোন্দকার মোক্তাদির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ স্যার ডঃ রেহমান সোবহান। তাঁদের সামনে একে একে সাতটি পলিসি ল্যাবে প্রাপ্ত সমস্যা ও সমাধানগুলো তুলে ধরা হয়। ডঃ রেহমান সোবহান সহ অন্য অতিথিরা তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের মতামত ও প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন দেশের উন্নয়ন সাধনের জন্য।

দেশের উন্নয়নে তরুণ সমাজের ভূমিকা সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই প্লাটফর্মের সৃষ্টি হয়েছিল। সফল একটি কনফারেন্স-সেমিনারের মাধ্যমে সেটি একটি রূপরেখা পেল। উপস্থিত অনেকেই তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতেও ইয়ুথ পলিসি ফোরামের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম চালু রাখার জন্য অনুরোধ করেন। ইয়ুথ পলিসি ফোরামের পক্ষ থেকে সকালের সমান অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত করা হয়।

 

চিত্রদেশ //এস//

Related Articles

Back to top button