প্রধান সংবাদসারাদেশ

লাখো পর্যটকে মুখর কক্সবাজার

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পর্যটন নগরী কক্সবাজার। দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটকের পদভারে সরগরম হয়ে উঠছে বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্র সৈকতটি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। মনোমুদ্ধকর পরিবেশে সাজানো হয়েছে হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউসগুলো। অতিথিদের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা। হোটেল-মোটেলগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে বর্ষবরণের নানা অনুষ্ঠানমালা।

পর্যটকদের বিনোদনের পাশাপাশি নিরাপত্তা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবছরও সৈকতে কনসার্ট কিংবা অন্য কোন বড় আয়োজন নিষিদ্ধ। তবে তারকা মানের হোটেলগুলোতে থাকছে ঘরোয়াভাবে নানা আয়োজন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

নতুন বছর শুরুর আগেই উৎসবে মেতেছে পর্যটন নগরী। বিদায়ী বছরের শেষ সূর্যাস্ত উপভোগ করতে সৈকত পাড়ে ভিড় জমিয়েছে লাখ লাখ পর্যটক। শিশু, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের পদচারণায় সৈকত এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

গতকাল বিকালে কক্সবাজার সৈকতে গিয়ে দেখা গেল উৎসবের অন্যরকম দৃশ্য। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে লাখো মানুষের ঢল। সৈকত তীরে লাল সূর্যটি যখন ধীরে ধীরে সাগরের দিগন্ত রেখায় মিলিয়ে যাচ্ছিল, উপস্থিত লাখো মানুষ আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতে কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে উৎসাহী অনেকে নেমে পড়ে পানিতেও।

জানা গেছে থার্টি ফার্স্টকে ঘিরে কক্সবাজারে দুই লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁ, রাস্তাঘাট ও বিপণি কেন্দ্রে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। পর্যটকদের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে ট্যুরিজম কোম্পানির লোকজন।

কক্সবাজার শহর, ইনানী, সেন্টমার্টিনসহ পর্যটন স্পটের আবাসিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস, কটেজসমূহের কোথাও কোন রুম খালি নেই। ফলে হোটেল ও ট্যুরিজম ব্যবসায়ীরা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি এবং উপজেলা পর্যায়ের আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউস খুঁজছেন। দলে দলে পর্যটক আসায় কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরাও খুশি।

জাভেদ নামে একজন সরকারি কর্মকর্তা পরিবার নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, জীবনে প্রথমবারের মতো এখানে এসেছি। এখানকার পরিবেশ যে এতো সুন্দর আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।

পাশে দাঁড়ানো তার ছোট মেয়ে হিমু বলেন, এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। আমি অনেক মজা করছি। এখান থেকে যেতে ইচ্ছা করছে না।

জাভেদের মতো অনেকেই পরিবার নিয়ে এসেছেন এই আনন্দ উপভোগ করতে। তাদের সবার মধ্যে বিরাজ করছে অন্যরকম আমেজ। কেউ পানিতে নেমে আনন্দ করছেন। আবার কেউ মোবাইলে সমুদ্র সৈকতের ছবি ধারণ করছেন।

ঢাকা থেকে এসেছেন ফয়সাল নামে ঢাবির এক শিক্ষার্থী। তিনি জানান, সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য উপভোগ করতে আজ সকালে বন্ধুকে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু আগে থেকে হোটেল বুকিং না দেয়ায় সিট পেতে সমস্যা হচ্ছে। তারপরেও এতো মানুষের সঙ্গে আনন্দে সামিল হতে পেরে ভালোই লাগছে।

আবাসিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান জানান, বিজয়ের মাসের শুরু থেকে পর্যটক সমাগম বেড়েছে। তবে থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে পর্যটকদের এই সমাগম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকের পদচারণায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারের সৈকত।

যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। তিনি জানান, বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হলে স্বাভাবিকভাবে নানা আশঙ্কা থাকে। তাই এবার কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেয়া হয়নি। পর্যটকদের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

চিত্রদেশ//এস//

আরও

Leave a Reply

Back to top button