প্রধান সংবাদলাইফস্টাইল

ব্রেকফাস্ট না করার জেরেই বাড়ে অ্যাসিডিটি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি। অফিসের তাড়া। ব্রেকফাস্ট করতে গেলে আরও দেরি। পরে কিছু একটা খেয়ে নেওয়া যাবে—এই ভেবে না খেয়েই বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়া। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন অফিসগামী কমবেশি সবাই। প্রায় দিনই খালি পেটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। অথচ কোনোভাবেই ঘুম থেকে ওঠার ২ ঘণ্টার বেশি দেরি করা উচিত নয়।

কেউ আবার ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করতে গিয়ে কিংবা ওজন ঝরাতে গিয়ে ব্রেকফাস্ট স্কিপ করেন। কিন্তু এ ধরনের অভ্যাস কোনো উপকারে আসে না। বরং নষ্ট হয় আপনার বিপাকক্রিয়া। এর জেরে ভুগতে পারেন ক্রনিক গ্যাস-অম্বলে। অনেক সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সত্ত্বেও গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দেখা দেয়। সে কারণে প্রায়ই ভুগতে হয় পেটফাঁপা, বুক জ্বালা ও পেট ব্যথায়। আর ব্রেকফাস্ট না করার জেরেই এমনটি দেখা দেয়।

এতে অ্যাসিডিটির প্রবণতা বাড়ে। এমনভাবে খাওয়ার সময়টা নির্ধারণ করুন, যাতে অন্তত কিছু সময় থাকে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে প্রাতরাশ বা ব্রেকফাস্ট করে ফেলা সবচেয়ে ভালো। কারণ রাতে ঘুমানোর কারণে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা আমাদের পেট পুরো খালি থাকে। এই দীর্ঘবিরতির পর সকালে সঠিক সময়ে খাবার না খেলে শরীরে নানা বিরূপ প্রভাব পড়ে, যার মধ্যে অন্যতম হলো—তীব্র অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। অনেক সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সত্ত্বেও গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দেখা দেয়। এসব ব্রেকফাস্ট না করার জেরেই দেখা দেয়।

আপনার শরীরের জৈবিক ঘড়ি অনুযায়ী, সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগেই পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড তৈরি হতে থাকে। যখন ঘুম থেকে ওঠার কোনো সলিড ফুড খান না, তখন খালি পেটেই ওই অ্যাসিড জমতে থাকে। যার জেরে পেটে জ্বালা ভাব অনুভব হয়। তারপরেই বুক জ্বালা, ঢেকুর ওঠা, বমি বমি ভাব এবং জিভে টক ভাব সমস্যা দেখা দেয়।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারাই গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজে ভোগেন, তাদের অধিকাংশই ব্রেকফাস্ট স্কিপ করেন। সে জন্য ঘুমানোর সময়েও পাকস্থলীতে ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণে অ্যাসিড তৈরি হয়। ব্রেকফাস্টের অন্যতম কাজই হলো—রাতভর যে অ্যাসিড তৈরি হবে, তা দূর করা। তাই ব্রেকফাস্ট না করলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হবেই। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই ভারি খাবার খাওয়া যায় না। তবে ঘুমভাঙার এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যেই ব্রেকফাস্ট সারতে হবে। তবেই হজম প্রক্রিয়া সচল থাকবে। ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি খান। তারপর ৬০-৯০ মিনিটের মধ্যে ব্রেকফাস্ট খেয়ে নিন।

ব্রেকফাস্টে বিশেষ ধরনের খাবার খাওয়া উচিত। অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমাতে ওটস, আটার রুটির মতো গোটাশস্য জাতীয় খাবার খেতে হবে। খালি পেটে তেল-মসলাদার, সাইট্রাস জুস বা কার্বোনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। আবার অনেকেই ব্রেকফাস্টে ভারি খাবার খাওয়ার বদলে চা-কফি খেয়ে দিন শুরু করেন। পেট ভরাতে দুটো বিস্কুট বা কেক খান। এটা মোটেও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। চা-কফি ব্রেকফাস্টের বিকল্প হতে পারে না। তাই ভারি খাবার খাওয়ার পরেই চা-কফি খাওয়া উচিত।

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
11 April 2026

ব্রেকফাস্ট না করার জেরেই বাড়ে অ্যাসিডিটি

chitrodesh.com