অপরাধ ও আইনপ্রধান সংবাদ

ডিবি কার্যালয়ে সাবরিনা

স্টাফ রিপোর্টার:
ভুয়া করোনা টেস্ট রিপোর্ট তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে সোমবার রাতে মামলাটি তেজগাঁও থানা থেকে তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।

জেকেজির চেয়ারম্যান আলোচিত চিকিৎসক সাবরিনা আরিফকে ওই একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবিতে নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসার নামে যে প্রতারণা করেছে সেখানে তার ভূমিকাসহ সংশ্লিষ্টতার আদ্যোপান্ত খোঁজা হবে।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) গোলাম মোস্তফা রাসেল জানান, জেকেজির বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত আমরা করছি।

ওই মামলায় সোমবার (১৩ জুলাই) ডা. সাবরিনা আরিফকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে চার দিনের রিমান্ড চেয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে তেজজগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হাসনাত খন্দকার। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে জেকেজির বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, মামলার আসামি ডা. সাবরিনা আরিফ জেকেজি হেলথ কেয়ার নামক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মামলার ঘটনায় জড়িত তার অপরাপর সহযোগী আসামিদের নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম এবং লোগো ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে পজিটিভ জাল রিপোর্ট সরবরাহ করে নিরীহ লোকদের টাকা আত্মসাৎ করেন। এরকম অবহেলাজনিত কাজের সাহায্যে জীবন বিপন্নকারী রোগের সংক্রমণ বিস্তারে সহযোগিতা করে আসছেন তিনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডা. সাবরিনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওপর বিভিন্ন সূত্রে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সরকারি কাজ পাইয়ে দিতেন। যার ফলশ্রুতিতে জেকেজি হেলথ কেয়ার বেপরোয়াভাবে সমাজে এইরূপ ক্ষতিসাধন করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিত মর্মে সাক্ষ্য পাওয়া যাচ্ছে।

ডা. সাবরিনা তার অপরাপর সহযোগীদের সহায়তায় করোনা মহামারির সময় অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে সমাজবিরোধী এবং ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন। তার প্রতিষ্ঠান জেকেজি ঢাকা শহরসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে করোনা সংক্রমণ রোগীদের স্যাম্পল কালেকশন করে তা পরীক্ষা না করে হাজার হাজার ভুয়া সার্টিফিকেট (নেগেটিভ/পজিটিভ) প্রদান করেছে। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে যাওয়ার পূর্বে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে জাল বা ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে।

অন্যদিকে নিজেকে ‘নিদোর্ষ’ দাবি করে আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডা. সাবরিনা বলেছেন, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। রিমান্ড শুনানি চলাকালে বিচারকের উদ্দেশে সাবরিনা বলেন, ‘জেকেজির চেয়ারম্যান আমাকে বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি জেকেজির চেয়ারম্যান না। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি নির্দোষ।’

চিত্রদেশ//এস//

 

Share this news as a Photo Card

Related Articles

Back to top button
14 July 2020

ডিবি কার্যালয়ে সাবরিনা

chitrodesh.com