সাহিত্য

কানিজ কাদীরের এর গল্প ‌‌’পরীর গল্প ও ওরা’ (২য় পর্ব)

জনপ্রিয় লেখক কানিজ কাদীর এর গল্প ‌‌’পরীর গল্প ও ওরা’ পড়তে চোখ রাখুন ‘চিত্রদেশ’ এর সাহিত্য পাতায়।

পাঠকদের জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রতি শুক্রবার ‘পরীর গল্প ও ওরা’ প্রকাশিত হচ্ছে চিত্রদেশে। আজ রইল গল্পটির -২য় পর্ব

ইলেকট্রিসিটি চলে গেল। ঘরের ভিতর বেশ অন্ধকার হয়ে গেল। মোমবাতি খোঁজাখুজিঁ শুরু হলো।
‌জ্যোৎস্না রাত, বাইরে আলো ঝলমল। অন্যরাও বাইরে এলো। জয়নাল উঠানে কয়েকটা চেয়ার দিল। কাঠের পুরনো বেঞ্চ পেতে দিল। অরিত্র, বাবা, মা, সুরভি ও অন্যরা সবাই উঠানে এসে বসল।
সুরভির মোবাইলে রিং বেজে উঠল। হ্যালো, বলেই ফোন নিয়ে ও একটু দূরে যেয়ে কথা বলা শুরু করল-‘কিরে তন্বী কি খবর।বল তো আমি এখন কোথায়?
… …. …
আমি এখন ঢাকা থেকে অনেক অনেক দূরে এক প্রত্যন্ত গ্রামে বসে তোর সাথে কথা বলছি। আমার দাদার বাড়ি।
. .. . . .
এসে ভালোই লাগছে। অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। আমরা উঠানে বসে চাঁদের জ্যোৎস্না উপভোগ করছি আর গল্প করছি।’
সুরভি অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে। মা’র ভালোই লাগছে। মেয়ে তাহলে গ্রামের এই পরিবেশ এনজয়ই করছে।
কারেন্ট আসতে একঘন্টা লাগবে। অমলা রান্না করছে। জয়নালও উঠানে এসে একটা টুলে বসেছে। সুরভি ভাবছে জ্যোৎস্না না থাকলে কি এক ভয়াবহ অন্ধকার থাকে এই এলাকায়। মানুষজন থাকে কি করে! সুরভি জয়নালকে জিজ্ঞেস করে, ‘আপনারা থাকেন কিভাবে অন্ধকারে, ভয় লাগে না? জয়নাল বলে ‘অহন আর বয় (ভয়) কিতা। অহনতো গেরামে কারেন (বিদ্যুৎ) আইছে। এক সময় তো বেবাক গেরাম ভুতুড়ে হইয়া যাইত রাইত অইলে।’
অরিত্র জিজ্ঞেস করে-‘ আপনি তো এই বাড়িতে অনেক দিন যাবৎ আছেন। কখনো ভয় পান নাই।’ জয়নাল বলল, ‘নাহ , কিসের বয় (ভয়)। আমি কিসতা ডরাই না। তয় বয় এর কতা তুললাই যহন তােমরারে আমার জীবনের গটনা কিছু শুনাই।’
অরিত্র ও সুরভি দুজনেই একসাথে বলে উঠল, ‘বলেন না প্লিজ, কী ঘটনা ,আমরা শুনব।’
সবাই খুব উদগ্রীব হয়ে উঠল জয়নালের গল্প শোনার জন্য।জয়নাল বলা শুরু করল- ‘আমি তখন ছোট । বয়স তের-চৌদ্দ অইব। আমরার গেরামেই এক বড়লোক গেরস্ত বাড়িতে রাখালের কাম করতাম। আমার বয়সী কয়েকজন রাখাল ছিল। তার মধ্যে একজন একটু বড় আছিল। আমরার চাইতে বয়সে একটু বড়।তারে আমরা সর্দার ডাকতাম। আমরা হগলে একসাথে মিল্যা মাঠে গরু চড়াইতাম।’

অরিত্র বলে উঠল, ‘জয়নাল চাচা এত ছোটবেলার কথা আপনার মনে আছে!’
জয়নাল বলে, ‘আগে শুন, আমার বেবাক ঘটনাই মনে আছে।’ তোমরা খালি মন লাগাইয়া শুন। তারপর একদিন অইছে কি আমি আমার একটা গরু খুঁইজ্যা পাইতেছিলাম না। চাইরপাশ খুজঁতে খুজঁতে শ্যাষে গেলাম কাছের হিজলের জঙ্গলায়। জঙ্গলা খুব ঘন আছিল। দিনের বেলায়ই ঐখানে কেউ ঢুকত না।আমি সাহস কইরা গরু খুঁজতে খুজঁতে জঙ্গলার একেবারে ভিতরে ঢুকলাম।

সুরভি বলে উঠল-‘ওয়াও! ঘটনার শরুটা তো খুব এক্সাইটিং। বলেন বলেন- আমরা মজা পাচ্ছি।’
জয়নাল বলা শুরু করল-‘গরুটা খুজঁতে খুজঁতে জঙ্গলার আরো ভিতরে ঢুকলাম।
হঠাৎ ফুলের একটা মিষ্টি সুবাস পাইলাম। এত সুন্দর সুবাস আর জীবনে কোনো দিন পাই নাই। আমি চারদিকে দেখলাম। এত সুন্দর সুবাস কোনো খান থেইক্যা আইতাছে। আরেকটু সামনে গেলাম । আমি তো অবাক। পাঁচটা কি যে সুন্দর সাদা ফুল ফুইট্যা আছে! সুগন্ধে চারদিক মৌ মৌ করতাছে। আমি আর লোভ সামলাইতে পারলাম না। একটা ফুল ছিড়াই ফালাইলাম। আমার জামার পকেটে ফুলডা রাখলাম। তারপর গরুডারে খুজঁতে খুঁজতে পাইলাম। গরু লইয়া যেই অন্য রাখালগর কাছে আইছি সবাই বলাবলি শুরু করল-‘অর শরীল থেইক্যা এত সুন্দর বাসনা আইতাছে ক্যান! কিরে তুই কি লাগাইছস।’ আমি কিছুই কই না। পরে অগর পিড়াপিঁড়িতে
ঘটনাটা খুইল্যা কইলাম।’ (চলবে)

লেখক: কানিজ কাদীর

 

 

আরও

Leave a Reply

Back to top button