মুক্তমত

করোনা রোগের চিকিৎসায় দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজনঃ ডাঃ রাজীব কুমার সাহা

বৈশ্বিক মহামারী তৈরি করেছে যে ভাইরাস তার নাম নভেল করোনা ভাইরাস। বৈজ্ঞানিক নাম SARS-CoV-2. ছোয়াঁছে এই ভাইরাসটি আমাদের শরীরে যে রোগ তৈরি করে তার নাম কভিড-১৯।
আমি সামনে থেকে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি মহানগর করোনা হাসপাতালে।
আজ আমি করোনার চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করবো। প্রথমেই আমি করোনার চিকিৎসাকে দুই ভাগে ভাগ করতে চাই। তা হলো –
১)করোনা রোগের চিকিৎসা এবং
২)করোনা রোগীর চিকিৎসা।
করোনার রোগের চিকিৎসা কিন্তুচিকিৎসক করবে না। করোনা রোগের চিকিৎসা করবেন আপনি এবং আপনারা। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ করাই করোনা রোগের প্রধান চিকিৎসা। সংক্রমণ রোধ করতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সারা পৃথিবী জুড়ে আলোচিত চিকিৎসা পদ্ধতি হলো লক-ডাউন। এর অর্থ হলো অবরুদ্ধ হয়ে থাকা। যে যেখানে যেভাবে আছেন, সে ভাবেই থাকেন। অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবেন না। সামাজিক দুরত্ব মেনে চলবেন। গনজমায়েত এ যাবেন না। বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যাবহার করবেন। বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোবেন। রোগটি যেহেতু হাচিঁ- কাশির মাধ্যমে ছড়ায় তাই রুমাল ব্যাবহার করুন।
পর্যাপ্ত পানি খান। ভিটামিন সি যুক্ত ফল খান। নিয়মিত ঘুমান। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ান।

এবার আসি করোনা রোগীর চিকিৎসা। করোনা রোগীর চিকিৎসা আমরা চিকিৎসকরা করবো। প্রথমেই আমরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হই শরীরে করোনা ভাইরাস আছে কি না।
রিপোর্টে পজিটিভ আসলে প্রথমে আমরা যে কাজটি করি তা হলো রোগীকে সবার থেকে আলাদা করি। আমরা এটাকে বলি আইসোলেসন।

মৃদু সমস্যা যেমন ঠান্ডা, কাশি, গলা ব্যাথা, হালকা জ্বর, শুকনো কাশি থাকলে রোগীকে আমরা হোম আইসোলেসনে রাখতে পারি। তারমানে হলো তাদের বাসায় আলাদা করে রেখে চিকিৎসা করা সম্ভব। অন্যান্য ভাইরাস রোগের মত এদের জ্বর ঠান্ডার সাধারন মেডিসিন দিয়েই চিকিৎসা করা যায়। বিশেষ কোন মেডিসিনের প্রয়োজন নেই।

যারা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়, যাদের বয়স বেশি, যাদের অন্যান্য রোগ যেমন অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস, হার্টের রোগ, কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি থাকে তাদের আমরা ভর্তি করে চিকিৎসা দিয়ে থাকি। যাদের জটিলতা হয় তাদের অধিকাংশ রোগী শ্বাসকষ্টে ভোগে থাকেন। তাদের শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে তাদের জন্য সবচেয়ে মেডিসিন হলো অক্সিজেন থেরাপি। নিউমোনিয়ার চিকিৎসা এবং অক্সিজেন থেরাপিতেই অধিকাংশ রোগীর উন্নতি আমরা দেখেছি। কিছু কিছু রোগীর ARDS নামক একটি জটিলতর অবস্থার তৈরি হয়। এ ধরনের রোগীদের আমরা আই,সি,ইউ এ চিকিৎসা দিয়ে থাকি।

সারা পৃথিবীতে অনেক ধরনের মেডিসিন করোনা চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কিছু এন্ট্রি ভাইরাল ( রেমডেসিভির, ফেভিপিরাভির, লপিনাভির, রিটোনাভির ইত্যাদি) কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে। তাছাড়া এন্ট্রি ম্যালারিয়াল, টসিলিজুমাব নামক কিছু মেডিসিন অনেক দেশে পরীক্ষা মূলক ভাবে পৃথিবীর অনেক দেশ ব্যাবহার করে ভালো ফল পেয়েছে।

এখনো এই মেডিসিনগুলোর কার্যকারিতা এবং প্বার্শ প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তাই করোনা চিকিৎসার জন্য এক এক দেশে এক এক রকম গাইড লাইন তৈরি করেছে। আমরা আমাদের দেশের গাইড লাইন মেনেই চিকিৎসা দিয়ে থাকি।

চিকিৎসা করলে বেশিরভাগ রোগীর উন্নতি হয়ে থাকে। কিছু কিছু রোগীর
জীবন আমরা রক্ষা করতে পারি না, যদিও তা কাম্য নয়। সবশেষে একটি কথাই সবার জন্য বলবো তা হলো আতংকিত হবেন না। সচেতন হোন। নিয়ম মেনে চলুন ও ভালো থাকুন।

লেখক পরিচিতি: ডাঃ রাজীব কুমার সাহা
এমবিবিএস, এম আর সি পি( লন্ডন), এমসিপিএস(মেডিসিন),এমডি(চেস্ট)
মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ
কনসালট্যান্ট, করোনা ইউনিট,
মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা।।

চিত্রদেশ //এল//

 

আরও

Leave a Reply

Back to top button